ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক

ত্বকে একটি কালো দাগ পড়লে সেটি দূর করার জন্য সকলেই সর্বোচেষ্টা করে থাকি। নামী দামী কত রকমের ক্রিম, বিউটি প্রোডাক্ট, ফেসিয়াল কত কিছুই না করা হয়ে থাকে। অনেকেই ত্বকের যত্নে ফলের তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করে থাকেন। ফুল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করেছেন কি? হ্যাঁ, ফুলের তৈরি ফেসপ্যাক। গোলাপ, লোটাস, ল্যাভেন্ডার সহ আরও কিছু ফুলে প্রাকৃতিক তেল এবং পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে। আসুন, এমনই কিছু ফুলের ফেসপ্যাক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক-

ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক
ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক
১। গোলাপের ফেসপ্যাক

সৌর্ন্দয চর্চায় গোলাপ বেশ জনপ্রিয় একটি উপাদান। গোলাপের পাপড়ি এবং এর নির্যাস ফেসিয়ালে ব্যবহার করা হয়। এক মুঠো গোলাপের পাপড়ি আধা কাপ পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এই পাপড়িগুলো পেস্ট করে নিন। এর সাথে এক টেবিল চামচ ওটমিল গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। গোলাপের পাপড়ি সিদ্ধ করা পানি ফেলে দিবেন না,এটি সংরক্ষণ করুন। গোলাপ জল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

২। গাঁদাফুলের ফেসপ্যাক

২-৩ টি গাঁদাফুলের পাপড়ি গুঁড়ো করে দুধের সাথে মিশিয়ে নিন। তারপর বেটে পেস্ট তৈরি করুন এর সাথে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো, টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টকদই এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ অথবা দুধের সর মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকে তাৎক্ষনিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এর সাথে ত্বকের দাগ দূর করে দেয়।

৩। লোটাস ফেসপ্যাক

একটি লোটাস বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। এর সাথে দুধ, চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই পেস্টটি মুখ এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। লোটাস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বকের ভিতর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। শুধু তাই নয় ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করে থাকে।

৪। জেসমিন ফেসপ্যাক

জেসমিনের পাপড়ি সিদ্ধ করে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ত্বকে সরাসরি লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া জেসমিন ফুলের পাপড়ি এবং অন্যান্য ফুলের পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে পারেন। এর সাথে এসেন্সিয়াল অইয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন কয়েক ফোঁটা। জেসমিন রোদেপোড়া দাগ দূর করে দিতে সাহায্য করে।

270

যৌবন ধরে রাখুন আজীবন সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করে এই ফেসপ্যাকটি !!

সৌন্দর্যের দিক থেকে জাপানিজ নারীরা সবসময়েই অনবদ্য। বিশেষ করে তাঁদের ঝলমলে চুল এবং নিখুঁত ত্বকের কারণে। এমন অনেক জাপানিজ চিত্রনায়িকা ও মডেলরা আছেন যাঁদের সত্যিকারের বয়স অনেক বেশি, কিন্তু দেখলে মনে হয় এখনও তরুণী! বিশ্বজুড়েই জাপানিজ নারীদের এই চিরতারুণ্য একটা রহস্যের বিষয় বৈকি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাঁদের এই তারুণ্যের পেছনে যে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে তা হল ‘ভাত’। কি, অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ, জাপানিজদের বয়স ধরে রাখে ভাতের তৈরি একটি ফেস প্যাক। আসুন তাহলে জেনে নিই সেই জাদুকরী ফেসপ্যাকটির কথা।

উপকরণ:

৩ টেবিল চামচ ভাত
১ টেবিল চামচ মধু
১ টেবিল চামচ গরম দুধ

যেভাবে তৈরি করবেন:

-চাল সিদ্ধ করুন। অর্থাৎ ভাত রান্না করুন। এবার চাল থেকে পানি আলাদা করে ফেলুন বা মাড় ফেলে দিন।
-গরম ভাত চটকে নিন, নাহলে পরে শক্ত হয়ে যাবে। এর সাথে হালকা গরম বা উষ্ণ দুধ এবং মধু দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন :

-প্রথমে মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে কোন হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
-মুখ শুকিয়ে গেলে ভাতের প্যাকটি মুখ ও ঘাড়ে ভাল করে লাগান।
-প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ভাত সিদ্ধ পানি বা মাড় দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে ফেলুন।
-সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

যেভাবে কাজ করে:

ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই যা ত্বককে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে থাকে ও তারুণ্য ধরে রাখে। তার সাথে সাথে সানবার্নও প্রতিরোধ করে। এছাড়া এতে লিনোলিক এসিড যা ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ভাতের মাড়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে যা ত্বকের পানির পরিমাণ বজায় রাখার পাশপাশি রক্ত চলাচল ঠিক রাখে।

ত্বকের বয়স ১০ বছর কমিয়ে দেবে যে মাস্ক । জেনে নিন তৈরির সহজ নিয়ম।

কে না চায় বয়সের চেয়ে নিজেকে কমবয়সী দেখাতে? কিন্তু অনেককেই বয়স হয়ে যাওয়ার আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এর পেছনের মূল কারণ হলো, আমাদেরই খামখেয়ালী অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, ত্বকের যত্ন এবং আবহাওয়া এই সকল কিছুর কারণেই ত্বকের সুস্থতা বজায় থাকে বা নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়াও বয়স হয়ে গেলে ত্বকে তো বয়সের ছাপ আরও ভালো করেই পড়ে যায়।

বয়স হয়ে যাওয়ার পর বয়সের ছাপ পড়া এবং অল্প বয়সেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া দুটোই ভাবিয়ে তোলার মতো। তবে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, প্রকৃতি সকল সমস্যার সমাধানের উৎস। সেটা আমরা অনেকেই জানি না।

বয়স ধরে রাখার চেষ্টা মানুষের আদি থেকে। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তা ত্বকে ফুটে উঠে। যা আমরা বলিরেখা বলে থাকি। বলিরেখা রোধ করার জন্য কত কিছুই না করে থাকি আমরা। এর কতটুকুই বা কার্যকর হয়ে থাকে। প্রকৃতি আমাদের এমন কিছু উপাদান দিয়েছে যা এই সমস্যারও সমাধানে কার্যকরি। আজকে আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো এমনই একটি পদ্ধতির যা আপনার ত্বকের বয়স প্রায় ১০ বছর কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, প্রকৃতি আমাদের জন্য এতো অসাধারণ সমাধান রেখেছে। চলুন তাহলে শিখে নেয়া যাক এমন একটি জাদুকরি পদ্ধতি যা আপনার ত্বকের বয়স কমিয়ে দেবে প্রায় ১০ বছর।

সারা বিশ্বের সুন্দরি নারিদের মধ্যে জাপানিরা অন্যতম। নিখুঁত, তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য তারা সারাবিশ্বে সমাদৃত। এমনকি কোন এক জাদুকরি কৌশলে তারা ত্বকের বলিরেখা পড়া রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের রহস্যটি কি? এক্সফলিয়েট, লেজার ট্রিটমেন্ট নাকি কোন বিউটি ট্রিটমেন্ট?

তাদের এই সৌন্দর্যের সকল রহস্য নিহিত আছে একটি মাত্র সাধারণ উপকরণে। আর তা হল ভাত! কি অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই তারা ত্বক এবং চুলের যত্নে ভাত ব্যবহার করে থাকেন। ভাতের মাড় দিয়ে তারা চুল ধুয়ে থাকেন, চুল নরম, কোমল সুন্দর করার জন্য। ত্বকের বলিরেখা রোধ করার জন্য এমনি এক ভাতের প্যাক ব্যবহার করে থাকেন তারা।

যা যা লাগবে

২-৩ টেবিল চামচ সিদ্ধ ভাত
১ টেবিল চামচ মধু
১ টেবিল চামচ দুধ

যেভাবে তৈরি করবেন

১। প্রথমে ৩ কাপ ঠাণ্ডা পানিতে চাল ধুয়ে সিদ্ধ মাঝারি আঁচে সিদ্ধ করতে দিন। চাল সিদ্ধ হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।

২। এবার ভাত ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে চটকে নিন। এর সাথে গরম দুধ এবং মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন।

৩। এখন প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে নিন।

৪। ৩০- ৪০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ভাতের মাড় দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৫। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

টিপস

১। এই ভাতের মাড় ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন চারদিন পর্যন্ত। এছাড়া বরফ তৈরি করে নিতে পারেন ভাতের মাড় দিয়ে। এই বরফ দিনে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

এই পদ্ধতিটি যে কারণে কমায় ত্বকের বয়স

* চালের মধ্যে রয়েছে ত্বকের ক্ষতিপূরণের অসাধারণ গুণ যা ত্বকের কোলাজেন টিস্যুর ক্ষতি পূরণ করে দিতে সক্ষম। চালের লিনোলেইক এসিড এবং স্কোয়ালেন নামক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতি পূরণ করে এবং কোলাজেন টিস্যুর সার্বিক উন্নতিতে কাজ করে।

* স্কোয়ালেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি ত্বক থেকে সূর্যরশ্মির মাধ্যমে হওয়া ক্ষতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে এবং ত্বকে সূর্যরশ্মির কারণে পড়া রিংকেল দূর করতেও সহায়তা করে।

* চাল ত্বকের সার্বিক উন্নতিতে বিশেষভাবে কার্যকরি যার ফলে ত্বকের বয়সের ছাপ, রিংকেল এবং কোলাজেন টিস্যুর ক্ষতি পূরণ করে খুবই দ্রুত। এছাড়াও মধু ও দুধের গুণাগুণ তো রয়েছেই। আর একারণেই ত্বকের বয়স কমিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে এই মাস্কটি।

ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করতে রান্নাঘরের টুকিটাকি দিয়ে তৈরি করে ফেলুন ক্লিনজার !!

ব্রণ সমস্যায় ছেলে মেয়ে উভয়েই ভুগে থাকেন। আর এই ব্রণের উৎপত্তি হয়ে অপরিষ্কার ত্বক থেকে। ত্বক অপরিষ্কার থাকলে শুধু ব্রণ নয়, হতে পারে আরও নানা ত্বক সমস্যা। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য আমরা মূলত ফেসওয়াস, ক্লিনজার ব্যবহার করি। বাজারের রাসায়নিক পন্য ব্যবহার করার চেয়ে ঘরে তৈরি করে নিতে পারেন ক্লিনজার। এরজন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না, আমাদের রান্নাঘরে আছে এমন কিছু সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান যা ক্লিনজার হিসাবে দারুণ ভাল কাজ করে থাকে। আজ এমন কিছু ক্লিনজারের সাথে পরিচিত হয়ে নিন।

১। মধু

মধু নিজেই খুব ভাল প্রাকৃতিক ক্লিনজার। কয়েক ফোটাঁ মধু হাতের তালুতে নিন, এরপর আস্তে আস্তে মুখে ঘষুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মধু সবরকম ত্বকে ব্যবহার করা যায়। আপনি যদি মধুর সাহায্যে মেকআপ তুলতে চান তবে ভেজা তোয়ালে বা তুলায় কয়েক ফোঁটা মধু নিন এবং তার সাথে সামান্য পরিমাণে বেকিং সোডা মেশান।এরপর টাওয়াল দিয়ে মেকআপ তুলে ফেলুন। ত্বকের অন্যান্য ময়লা দূর করার জন্য একটি টোনার ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা মধুর সাথে দুধ এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দুধের পরিবর্ততে লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন।

২। টকদই

টকদই প্রাকৃতিক ক্লিনজার। এক চা চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ টকদই ভাল করে মিশিয়ে নিন। এর সাথে দুই ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয় নিতে পারেন। এটি ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। দুই-তিন মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

৩। দুধ

কাঁচা দুধের সাহায্যে খুব সহজ়ে একটি পরিষ্কার এবং আকর্ষণীয় ত্বক পাওয়া যায়। একটি তুলার বল তৈরি করে তাতে কয়েক ফোঁটা কাচাঁ দুধ মিশিয়ে মুখে ভালভাবে ম্যাসেজ করুন। এই কাজটি তিন চার বার করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪। তেল

সেই আদিকাল থেকে তেল প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শুধু ক্লিনজার হিসাবে ব্যবহৃত হয় না ত্বককে মসৃণ এবং দীপ্তিময় করতে তেলের জুঁড়ি নেই। কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে বৃত্তাকার গতিতে দু হাত দিয়ে ম্যাসেজ করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। যেকোন প্রকার তেল ব্যবহার করতে পারেন তবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা বেশী ভাল।

৫। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

এক ভাগ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার দুই ভাগ পানি মিশিয়ে ভাল করে ঝাঁকিয়ে নিন। একটি তুলোর বলে মিশ্রণটি ভিজিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬। টমেটো

রোদ থেকে ঘরে ফিরে এক টুকরো টমেটো হতে পারে অনেক ভাল ক্লিনজার। রোদে পোড়া দাগ হতে রক্ষা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু রোদ থেকে ফিরে যদি এক টুকরো টমেটো দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যায় তবে রোদে পোড়া দাগ ত্বকে স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। এক টুকরো টমেটো মুখে ভালভাবে ঘষুন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যে কোন প্রকার ত্বকই এক নিমিষে ফর্সা করবে এই দারুণ ২টি ফেসপ্যাক !!

ঘরোয়া কিছু প্যাক ব্যবহার করে খুব সহজেই চেহারার ক্লান্তি ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়। কীভাবে? আসুন জেনে নিই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এমন দুটি ফেস প্যাক। বেড়াতে যাওয়ার আগে লাগিয়ে নিতে পারেন এর যেকোন একটি। আর এক নিমিষে পেয়ে যান উজ্জ্বল প্রাণবন্ত ফর্সা ত্বক।

কলা পেঁপের ফেস প্যাক

যা প্রয়োজন

✿ ১ টুকরো পেঁপে

✿ ১ টুকরো কলা

✿ ১/৪ চাচামচ লেবুর রস

প্রণালী

-পেঁপে, কলা ভাল করে মিশিয়ে পেষ্ট করে নিন। এবার এতে লেবুর রস দিয়ে আবার ভাল করে মেশান। প্যাকটি ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে শুকানোর জন্য অপেক্ষা করুন। ১৫ মিনিট পর প্যাক শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

যেভাবে কাজ করে

পেঁপেতে এক প্রকার এনজাইম আছে যা ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে, দাগ দূর করে থাকে। ফ্রুট ফেস প্যাক সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী হয়ে থাকে। তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুয়ে নিতে ত্বককে মসৃন করতেও এই প্যাকের জুড়ি নেই।

বেসন, হলুদ, মধুর ফেইস প্যাক

যা প্রয়োজন

✿ বেসন

✿ হলুদ

✿ মধু

✿ লেবুর রস

প্রণালী

-২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ মধু, ১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এবং ১/২ চা চামচ লেবুর রস দিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। খুব ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে যাতে বেসনের কোন দানা না থাকে। এবার মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। মুখ শুকানোর পর প্যাকটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্যাক শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সাথে সাথে আপনি পেয়ে যাবেন উজ্জ্বল ত্বক।

যেভাবে কাজ করে

বেসনে আছে প্রোটিন। আর হলুদ এবং লেবুর রসে আছে স্কিন ব্লিচ করার উপাদান। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে। মধু ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে ভিতর থেকে ত্বকে গ্লো নিয়ে আসে। এই প্যাকটিও সব ধরনের ত্বকে কার্যকরী। তবে সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারীরা লেবুর রসের পরিমাণ কম দেবেন।

খুব সহজ কৌশলে পা দুটিকে করে ফেলুন তুলতুলে নরম

না, পার্লারে যেতে হবে না কিংবা কিনতে হবে না কোন দামী পণ্য। খুব সহজ একটি কৌশলে আপনার রুক্ষ্ম পা দুটিকে ঘরে বসেই করে ফেলতে পারবেন তুলতুলে নরম। শক্ত গোড়ালি ওয়ে উঠবে বাচ্চাদের ত্বকের মত, দূর হবে গোড়ালি ফাটা এবং নিজের পায়ে হাত দিয়েই নিজেই অবাক হয়ে যাবেন আপনি। সবচাইতে দারুন ব্যাপারটি হচ্ছে প্রথমবারের পরই ফলাফল পেয়ে যাবেন! ২/৩ বার ব্যবহারে গোড়ালি হয়ে উঠবে নিখুঁত! চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত পদ্ধতি।

খুব সহজ কৌশলে পা দুটিকে করে ফেলুন তুলতুলে নরম
খুব সহজ কৌশলে পা দুটিকে করে ফেলুন তুলতুলে নরম
যা যা লাগবে

১/৪ টেবিল চামচ বেকিং সোডা (বেকিং পাউডার নয় কিন্তু)

২/৬ লিটার পানি

৩/ফুট স্ক্রাবিং করার জন্য ঝামা বা স্ক্রাবার বা ব্রাশ

৪/আপনার পছন্দের যে কোন ময়েসচারাইজার ক্রিম

৫/প্লাস্টিকের প্যাকেট বা পলিথিনের মোজা

যেভাবে করবেন

-বেকিং সোডা গরম পানিতে ভালো করে গুলে নিন। একদম মিশে গেলে সেটায় আপনার পা ২৫ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন।

-ঝামা দিয়ে পা ভালো করে ঘষে নিন।

-তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে, তোয়ালে দিয়ে মুছে পায়ে ভালো করে ক্রিম মেখে নিন একটু বেশী করে।

-এবার এই ক্রিম মাখা পা প্লাস্টিকের প্যাকেটের মাঝে ঢুকিয়ে পা বেঁধে রাখুন।

-২ ঘণ্টা পর প্যাকেট খুলুন। বাড়তি ক্রিম লেগে থাকলে মুছে নিন।

-আর উপভোগ করুন বাচ্চাদের মত নরম পায়ের ত্বক!

মনে রাখবেন

-প্রথমবারেই পার্থক্য দেখতে পাবেন। পায়ের অবস্থা কতটুকু খারাপ সেটার ওপরে নির্ভর করে ৩ থেকে ৭ বার করার প্রয়োজন হতে পারে।

-একবার করার পর ৭দিন বিরতি দিয়ে আবার করবেন। সপ্তাহে একবার করাই যথেষ্ট।