প্রথমবারের মত পিএসএলে দল পেতে পারেন সাইফউদ্দিন, মিরাজ

অাগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (পিএসএল) এর প্লেয়ার ড্রফট। অার এই ড্রফটে বাংলাদেশের রয়েছে ১৬ জন ক্রিকেটার। প্লাটিনামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম না থাকলেও ডাইমন্ড ক্যাটেগরিতে রয়েছে দুইজন।

ওপেনার তামিম ইকবাল এবং মোস্তাফিজুর রহমান। গোল্ড ক্যাটাগরিতে তাসকিন অাহমেদ। এছাড়া সিলভার ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৩ জন ক্রিকেটার তারা হলেন, শাহরিয়ার নাফিজ, অনামুল হক বিজয়, নাসির হোসেন, অাফিফ হাসান, কাজী নুরুল হাসান সোহান,

মেহেদি হাসান মিরাজ, জুবায়ের হোসেন লিখন, নাজমুল হাসান শান্ত, মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস।

প্রথম বারের মত কনো বিদেশি লিগে নাম লেখিয়েছেন মোসাদ্দেক, সাইফউদ্দিন, শান্ত, মত তরুন ক্রিকেটার। তবে ক্যারিবিয়ান প্রমিয়ার লিগে এর অাগে গিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

হাথুরুসিংহের পদত্যাগে মিরাজ-সোহানের দু’রকম প্রতিক্রিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক: হাথুরুসিংহের হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষনায় সবাই অবাক, বিস্মিত। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ হেড কোচের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র।

কেউ কেউ বিষয়টাকে পেশাদার মানসিকতায় দেখতে চাচ্ছেন। কারো কারো মত-কোচ যাবেন, কোচ আসবেন; এটাই তো রীতি। এবারের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা নুরুল হাসান সোহানের কথা, ‘কোচ চলে যাচ্ছেন, তার জয়গায় অবশ্যই অন্য কাউকে নিতে হবে। তাছাড়া সিনিয়ররা অনেক কিছু জানেন, আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।’

একজন যাবে। একজনের জায়গায় আরেকজন আসবেন সেটাই স্বাভাবিক। হাথুরুর জায়গায় এখন যদি স্থানীয় কাউকে বেছে নেয়া হয় ? দেশী কারো ওপর দায়িত্ব অর্পন করা হয় ? তাহলে আপনার মত কি হবে ? এমন প্রশ্ন করা হলে নুরুল হাসান সোহান বলেন, ‘এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমাদের খেলোয়াড় যারা আছেন সবাই প্রফেশনাল। যেই দায়িত্বে আসুক না কেন সবাই তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন।’

অন্যদিকে ব্যক্তি জীবনে একটু আবেগতাড়িত মেহেদি হাসান মিরাজ। বিস্মিত বাংলাদেশী অফস্পিনার বলেন, ‘আসলে ডিসিশনটা হঠাৎ করে। আসলে অবাক করার মতো। আসলে আমি ওইরকমভাবে শিওর না। কাল শুনছিলাম যে উনি চলে যাচ্ছেন। টিমটাকে উনি খুব ভালোভাবে হ্যান্ডলিং করছিলেন। উনিই ভালো বলতে পারবেন, কেনো যাচ্ছেন। হয়তো উনি ভালো মনে করছেন।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ই কি মনে হয়েছে হাথুরু চলে যাচ্ছেন বা চলে যেতে পারেন ? মিরাজের ব্যাখ্যা , ‘আমাদের কাছে ওইভাবে কখনো মনে হয়নি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। হঠাৎ করে সিদ্ধান্তটা এসেছে। এখনো অনেকে সিরিয়াস না যে, উনি চলে যাচ্ছেন। ওই রকমভাবে আলোচনা হয়নি আমাদের মধ্যে। আমরা মনে করেছি, হুট করে বলেছেন। তারপরও আমার কাছে মনে হয় টিমের সাথে অনেক দিন ছিলেন, ভালোই ছিলেন।’

হাথুরুসিংহের পদত্যাগে ক্রিকেটাররা কে কি বললেন

হাথুরুসিংহের হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষনায় সবাই অবাক, বিস্মিত। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ হেড কোচের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র।

কেউ কেউ বিষয়টাকে পেশাদার মানসিকতায় দেখতে চাচ্ছেন। কারো কারো মত-কোচ যাবেন, কোচ আসবেন; এটাই তো রীতি। এবারের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা নুরুল হাসান সোহানের কথা, ‘কোচ চলে যাচ্ছেন, তার জয়গায় অবশ্যই অন্য কাউকে নিতে হবে। তাছাড়া সিনিয়ররা অনেক কিছু জানেন, আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।’

একজন যাবে। একজনের জায়গায় আরেকজন আসবেন সেটাই স্বাভাবিক। হাথুরুর জায়গায় এখন যদি স্থানীয় কাউকে বেছে নেয়া হয় ? দেশী কারো ওপর দায়িত্ব অর্পন করা হয় ? তাহলে আপনার মত কি হবে ? এমন প্রশ্ন করা হলে নুরুল হাসান সোহান বলেন, ‘এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমাদের খেলোয়াড় যারা আছেন সবাই প্রফেশনাল। যেই দায়িত্বে আসুক না কেন সবাই তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন।’

অন্যদিকে ব্যক্তি জীবনে একটু আবেগতাড়িত মেহেদি হাসান মিরাজ। বিস্মিত বাংলাদেশী অফস্পিনার বলেন, ‘আসলে ডিসিশনটা হঠাৎ করে। আসলে অবাক করার মতো। আসলে আমি ওইরকমভাবে শিওর না। কাল শুনছিলাম যে উনি চলে যাচ্ছেন। টিমটাকে উনি খুব ভালোভাবে হ্যান্ডলিং করছিলেন। উনিই ভালো বলতে পারবেন, কেনো যাচ্ছেন। হয়তো উনি ভালো মনে করছেন।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ই কি মনে হয়েছে হাথুরু চলে যাচ্ছেন বা চলে যেতে পারেন ? মিরাজের ব্যাখ্যা , ‘আমাদের কাছে ওইভাবে কখনো মনে হয়নি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। হঠাৎ করে সিদ্ধান্তটা এসেছে। এখনো অনেকে সিরিয়াস না যে, উনি চলে যাচ্ছেন। ওই রকমভাবে আলোচনা হয়নি আমাদের মধ্যে। আমরা মনে করেছি, হুট করে বলেছেন। তারপরও আমার কাছে মনে হয় টিমের সাথে অনেক দিন ছিলেন, ভালোই ছিলেন।’

হাথুরুসিংহের আমলে জাতীয় দলে খেলা হয়নি শাহরিয়ার নাফিসের। তবে ক্যাম্পে হাথুরুসিংহকে পেয়েছেন নাফিস। তাই শ্রীলঙ্কান এ কোচকে নিয়ে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাসও নেই নাফিসের,‘চান্ডিকা খুব ভালো কাজ করছিলেন এবং তার সাফল্যের হার ভালো ছিল। তবে ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেটা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তিনি না থাকলে অন্য কেউ কোচ হবে। আশা করছি, বাংলাদেশ দল যে সফলতার পথে ছিল, সেখানেই থাকবে। তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ভালো খেলছিল। মূল খেলাটা কিন্তু ক্রিকেটাররাই খেলে। উনার অধীনে যা হয়েছে, তার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকেই এসেছে। বোর্ডও কোথাও চলে যাচ্ছে না, ক্রিকেটাররাও কোথাও চলে যাচ্ছে না। আমি মনে করি, একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হবে না।’

হাতুরুসিংহের সময়টাতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। শাহরিয়ার নাফিসও সেই তালিকার একজন। বিগত তিন বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েও নজর কাড়তে পারেননি। হাথুরুসিংহে বিদায়ে কি কপাল খুলবে শাহরিয়ার নাফিস, তুষার ইমরান কিংবা নাঈম ইসলামদের? উত্তরটা সময় বলে দিবে। তবে এগুলো নিয়ে ভাবতে নারাজ নাফিস। তার ভাষ্য,‘কোনো কোচ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন, কেউ আবার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেন। চন্ডিকা অনেক সাফল্য দিয়েছেন। তাকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে এখন লাভ নেই। উনি যে ভুল করেছেন তা কিভাবে শুধরে নেয়া যায় বা উনি যে সফলতা দিয়েছেন সেটা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। বিগত তিন বছর আমার পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল। কিন্তু সুযোগ পাইনি। এখন যদি চিন্তা করি এখন সুযোগ পাবো, তাহলে ভুল হবে। আমার মনে হয়, যারা পারফর্ম করবে তারাই সুযোগ পাবে। পারফর্ম করাই বড় কথা।আমার মনোযোগ ভালো খেলার দিকে। সুযোগ না এলেও ভালো খেলতে হবে।

শ্রীলঙ্কা নয়, এবার নতুন যে সিদ্ধান্ত নিলেন হাথুরু

তার হঠাৎ পদত্যাগ যেন ‘ বিনা মেঘে বজ্রপাত।’ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচের পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে পারেন-এর সামান্যতম আভাস বা ইঙ্গিত মেলেনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) বর্তমান বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনসহ বেশ ক’জন শীর্ষ পরিচালক ও বোর্ডের নীতি নির্ধারনী মহলের ক’জনার সাথে ছিল তার আন্তরিক সম্পর্ক। এতকাল জানা ছিল, বিসিবি বিগ বসের পছন্দের মানুষ হাথুরু। বিভিন্ন সময় হাথুরুর ইচ্ছের বাস্তবায়ন এবং তার কর্ম কান্ডের প্রতি বোর্ড প্রধানের নৈতিক সমর্থণে এমন ধারণাই হয়েছে প্রতিষ্ঠিত।

ক্রিকেটের অল্প সল্প খোঁজ খবর যারা রাখেন, তাদের সবার জানা-নাজমুল হাসান পাপনের একান্তই আপন জন হাথুরু। তার কাছের মানুষ। পছন্দের ব্যক্তিত্ব। সেই হাথুরু বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ বাংলাদেশের প্রধান কোচের পদ থেকে সড়ে দাঁড়াবেন, তা যে ছিল ভাবনার অতীত।

যা হোক, অনেক সময় এমন হয়। তাইতো কথায় বলে, ‘মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক।’ তবে কেউ ভাবুন আর নাই ভাবুন-এটাই সত্য যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান প্রশিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এটা এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট। বিসিবি বিগ বস নিজ মুখেই তা জানিয়েছেন।

এখন সবার প্রশ্ন একটাই-হঠাৎ কি এমন হলো যে, হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের পদ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ? এমন হতো যে, বিসিবি ফুটবল বা হকি কোচের মত জাতীয় দলের কোচের পারিশ্রমিক যথা সময় ও ঠিকমত দিতে পারে না। হাথুরুর বেশ কয়েক মাসে বেতন বকেয়া। বিসিবি তার বেতন ভাতা ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা ঠিক মত পরিশোধ করতে পারছে না, এমন কিছু।

কিন্তু অমন কিছু হয়নি। হবার প্রশ্নই আসে না। হাথুরু কেন, বিসিবির কোন কোচিং স্টাফেরই বেতন ভাতা অনিয়মিত না। আর্থিক দিক থেকে বিসিবি অনেক সমৃদ্ধই। বিদেশী কোচিং স্টাফের বেতন ভাতা খুবই নিয়মিত। তার চেয়ে বড় কথা, হাথুরু বিসিবির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ বেতন ভাতা পান। আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশী। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী জাতীয় দলের ক্রিকেট কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের মাসিক বেতন অনেক বেশী। প্রায় ২৮ লাখ টাকা । কাজেই বেতন ভাতা নিয়ে অসন্তুষ্ট হবার প্রশ্নই আসে না।

দ্বিতীয় কারণ হতে পারতো, বিসিবির সাথে তার সম্পর্কের হঠাৎ অবনতি ঘটলে। তাও ঘটেনি। বিসিবির প্রধান থেকে শুরু করে শীর্ষ পরিচালক ও নীতি নির্ধারক মহলের সাথে তার সুসম্পর্ক। তাহলে কি এমন ঘটলো বা কি এমন কারণ যে, হাথুরুসিংহে হঠাৎ সড়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন ? তা নিয়ে আছে মত পার্থক্য। এক পক্ষ বলছে, জন্মসূত্রে শ্রীলঙ্কান হাথুরুসিংহে তার নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার কোচের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তাই তিনি সানন্দে রাজি হয়ে বাংলাদেশের কোচিং ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাথুরুকে শ্রীলঙ্কার কোচ করা হতে পারে , লঙ্কান বোর্ড ভবিষ্যত কোচ হিসেবে হাথুরুর কথা ভাবছিলেন -এমন একটা গুঞ্জন অবশ্য ছিল। গত মার্চ-এপ্রিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন শ্রীলঙ্কা সফরে, তখন এমন একটা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।

তবে সেটা আমলে আনার মত নয় এই কারণে যে, লঙ্কান বোর্ড বিসিবির মত আর্থিক দিক থেকে তত স্বচ্ছল নয়। হাথুরু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনেক মোটা অংকের টাকা বেতন- ভাতা পান, লঙ্কান বোর্ড অত টাকা বেতন দিতে পারবে না।

কিন্তু ঢাকা তথা বাংলাদেশে এখন সেই খবরই চাওর হয়ে গেছে। গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে , হাথুরুসিংহে খুব শীঘ্রই শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের কোচ হতে যাচ্ছেন। লঙ্কান বোর্ডের প্রস্তাবে তিনি সম্মত। দু’পক্ষের কথা বার্তাও একপ্রকার চূড়ান্ত, তাই হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের কোচের পদ ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষ এ খবরকে সত্য ধরে বসে আছেন। কিন্তু ভিতরের খবর হলো, সেটাই শেষ কথা নয়। শ্রীলঙ্কার কোচ হতে যাচ্ছেন বলেই হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের কোচের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন- এ খবর সত্য নয়। একটি দায়িত্বশীল নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, হাথুরু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের একাডেমির হেড কোচের অফার পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচের অফার পেয়েই মূলতঃ তিনি বাংলাদেশের হেড কোচের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসিবিকে চিঠি দিয়েছেন। এ কথার স্বপক্ষে একটা বড় দলিল হলো, বর্তমানে হাথুরুসিংহে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তার পরিবার ও সন্তান সন্ততি সব অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে লেখাপড়াও করছে। অস্ট্রেলিয়ান হেড কোচ পদে কাজ করতে পারলে পরিবারের সাথেই থাকার সুযোগ হবে।

ঢাকায় হাথুরুসিংহের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে, হাথুরুর পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেছেন। তারা আর শ্রীলঙ্কায় ফিরে যেতে রাজি নন। এটাও শ্রীলঙ্কার কোচ না হয়ে হাথুরুসিংহের অস্ট্রেলিয়ান একাডেমির কোচিং করানোর একটা বড় কারণ।

এর বাইরে আরও একটা কারণ আছে। বাংলাদেশে হাথুরুর খুব কাছের জনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের কিছু কর্মকান্ড মনোপুতঃ হয়নি হাথুরুসিংহের। প্রথমত, মুমিনুল হককে দলে নেয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন হাথুরু। টেস্ট স্কোয়াডে ঢোকানোই শেষ নয়। এর পরে মুমিনুল হককে সীমিত ওভারের ফরম্যাটের সিরিজে স্কোয়াডে রাখাতেও দারুণ চটেছিলন লংকান এই কোচ।

তখনই তার প্রথম মনে হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় দলে তার কথাই শেষ কথা নয়। আরও কথা আছে। আর ক’জনার কথা খাটে। তিনি একাই ক্ষমতাধর নন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, তার আগে হাথুরুসিংহে অমনই মনে করতেন। মনে করার কারণও ছিলো। বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হবার বছর খানেক যেতেই তিনি হয়ে ওঠেন বিসিবি সভাপতির আস্থাভাজন। বিশ্বাসী ও প্রিয় পাত্র। তার মতের বাইরে কিছুই ঘটতো না। এমনকি হাথুরুর সাথে দ্বন্দ্বের ও মতের অমিল হওয়ায় বিসিবি পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয় ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য হন।

বিভিন্ন সময় হাথুরুর কোন বক্তব্য বা ইচ্ছের প্রতি পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে এসেছেন বিসিবি প্রধান পাপন। সেই হাথুরু শুধু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমির হেড কোচ কিংবা শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের কোচের অফার পেয়েই তা লুফে নেবেন-তাইবা কি করে ভাবা ?

কারণ প্রথমতঃ লঙ্কান বোর্ডের চাকুরিটা বিসিবির মত এত লোভনীয় নয়। বেতন ভাতা কম। অস্ট্রেলিয়ান একাডেমির বেতন ভাতা হয়ত বেশী। কিন্তু ভিতরের খবর হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের ব্যর্থতায় বোর্ডের ভিতরে বেশ সমালোচনা হয়েছে। স্থানীয় প্রচার মাধ্যমেও কোচ হাথুরুর পারফরম্যান্স, অর্জন ও প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । সে সমালোচনায় হাথুরুর বোর্ডে অবস্থান খানিক নড়বড়ে হয়েছে।

এর মধ্যে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম প্রকাশ্যে কোচের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হাথুরু তাকে টিম মিটিংয়ে যা যা বলেছেন, মুশফিক প্রকাশ্যে তা মিডিয়ার সামনে বলে দিয়েছেন। এরপর মুমিনুল হককে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে নেয়া হয়েছে। আর সর্বশেষ ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ব্যর্থতার কারণ জানতে দরকার হলে হাথুরুকে ছুটি থেকে বাংলাদেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’- বোর্ড সভাপতির এমন বক্তব্যেও হাথুরু নাকি নাখোশ।

অর্থাৎ, হাথুরুসিংহে ধরে ফেলেছেন, বিসিবিতে তার অবস্থান আগের মত নেই। খানিক নড়বড়ে। তার মতামতের প্রাধান্যও গেছে কমে। তার সাথে অস্ট্রেলয়ান একাডেমির লোভনীয় অফার। সব মিলেই হাথুরু বাংলাদেশের কোচ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

হাথুরুসিংহের চলে যাওয়া নিয়ে এবার এ কি বললেন সৌম্য সরকার

টাইগার কোচ হাথুরুসিংহ আর ফিরছেন না! চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কে (বিসিবি) পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বোর্ড, কিন্তু তার ফোন বন্ধ! কি কারণে তিনি পদত্যাগ করলেন? অভিমান নাকি একান্তই ব্যক্তিগত? টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কিছু একটা হয়েছে, নয়তো এভাবে এভাবে সরে যাওয়ার কথা নয়। গতকাল ঠিক এভাবেই কথা গুলো বলেছেন বিসিবি কর্তা নাজমুল হাসান পাপন।

প্রধান কোচের পদত্যাগ ইস্যুতে বোর্ড সভাপতিই যা বলার বললেন। এই বিষয়ে অন্য সবাই সংযত। এতটাই চুপ যে খেলোয়াড় থেকে বোর্ডে পরিচাকদের কেউ মুখ খুলতে নারাজ। অদ্ভুত এক নিরবতা। অবশ্য বিসিবি সভাপতি স্পট করেই জানিয়ে দিয়েছেন হাথুরুর সাথে কথা না বলে তাঁকে ছাড়ছে না বোর্ড। জানার চেষ্টা করা হবে কেন তিনি পদত্যাগ করছেন। যদি তিনি থাকতে না চান বোর্ড থাকে আটকাবে না বোর্ড।

এদিকে এই নিশ্চুপ নিরবরা ভেঙ্গে এবার গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন টাইগার ওপেনার সৌম্য সরকার। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) চিটাগং ভাইকিংসের অনুশীলনে বিসিবির একাডেমিক মাঠে কথা হয় সৌম্যের সাথে। তিনি বলেন, হাথুরুসিংহ চলে গেলে তাকে মিস করাটা তো স্বাভাবিক।

‘বোর্ডও কোথাও যাচ্ছে না, ক্রিকেটাররাও কোথাও যাচ্ছে না’

ইয়াসিন: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন চন্ডিকা হাথরুসিংহে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন হাথুরুসিংহে। সেখানেই বাংলাদেশের কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান এই কোচ। সিরিজ শেষ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বোর্ডকে জানান, তিনি আর থাকতে চাচ্ছেন না।

বোর্ড সভাপতি জানেন না, হাথুরুসিংহের পদত্যাগের কারণ। তার ধারণা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এমন কিছু হয়েছে যার কারণে কোচ পদত্যাগ করেছেন। নাজমুল হাসান বলেছেন,‘কেউ যদি থাকতে না চায়, তাহলে কি তাকে জোর করে রেখে দিব? আমি তো কাউকে জোর করার কোনো কারণই দেখি না।’বোর্ড সভাপতির কথায় স্পষ্ট হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আর থাকছেন না।

শ্রীলঙ্কান এ কোচকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মূলত মিরাজকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ে আসার কাজটা করেছেন হাথুরুসিংহে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে হাথুরুসিংহের আগ্রহে মিরাজের অভিষেক হয়েছিল। পরের গল্পটাই সবারই জানা। সেই মিরাজ হাথুরুসিংহের পদত্যাগ নিয়ে কি ভাবছেন? আজ মিরপুর একাডেমি মাঠে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেন,‘ওর সিদ্ধান্তটা অবাক করার মতো। আমি শুনেছি উনি চলে যাচ্ছে। দলটাকে খুব ভালোভাবে হ্যান্ডেলিং করছিলেন হাথুরুসিংহে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান হাথুরুসিংহে। ওই সফরে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যান্যদের মতো মিরাজও হাথুরুসিংহের কথায় কিংবা হাবভাবে কিছুই বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন,‘আমার কাছে ওখানে কখনোই এমন কিছু মনে হয়নি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, হঠাৎ করে সিদ্ধান্তটা এসেছে । উনি ভালো বলতে পারবেন, কেনো যাচ্ছেন। হয়তো উনি ভালো মনে করছেন। আমার কাছে মনে হয় দলের সাথে অনেক দিন ছিলো, ভালোই ছিলো।’

হাথুরুসিংহের আমলে জাতীয় দলে খেলা হয়নি শাহরিয়ার নাফিসের। তবে ক্যাম্পে হাথুরুসিংহকে পেয়েছেন নাফিস। তাই শ্রীলঙ্কান এ কোচকে নিয়ে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাসও নেই নাফিসের,‘চান্ডিকা খুব ভালো কাজ করছিলেন এবং তার সাফল্যের হার ভালো ছিল। তবে ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেটা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তিনি না থাকলে অন্য কেউ কোচ হবে। আশা করছি, বাংলাদেশ দল যে সফলতার পথে ছিল, সেখানেই থাকবে। তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ভালো খেলছিল। মূল খেলাটা কিন্তু ক্রিকেটাররাই খেলে। উনার অধীনে যা হয়েছে, তার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকেই এসেছে। বোর্ডও কোথাও চলে যাচ্ছে না, ক্রিকেটাররাও কোথাও চলে যাচ্ছে না। আমি মনে করি, একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনো ক্ষতি হবে না।’

হাতুরুসিংহের সময়টাতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। শাহরিয়ার নাফিসও সেই তালিকার একজন। বিগত তিন বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েও নজর কাড়তে পারেননি। হাথুরুসিংহে বিদায়ে কি কপাল খুলবে শাহরিয়ার নাফিস, তুষার ইমরান কিংবা নাঈম ইসলামদের? উত্তরটা সময় বলে দিবে। তবে এগুলো নিয়ে ভাবতে নারাজ নাফিস। তার ভাষ্য,‘কোনো কোচ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন, কেউ আবার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেন। চন্ডিকা অনেক সাফল্য দিয়েছেন। তাকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে এখন লাভ নেই। উনি যে ভুল করেছেন তা কিভাবে শুধরে নেয়া যায় বা উনি যে সফলতা দিয়েছেন সেটা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। বিগত তিন বছর আমার পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল। কিন্তু সুযোগ পাইনি। এখন যদি চিন্তা করি এখন সুযোগ পাবো, তাহলে ভুল হবে। আমার মনে হয়, যারা পারফর্ম করবে তারাই সুযোগ পাবে। পারফর্ম করাই বড় কথা।আমার মনোযোগ ভালো খেলার দিকে। সুযোগ না এলেও ভালো খেলতে হবে।-রাইজিংবিডি।

১৯ বছরের এই বাংলাদেশী বোলার বিপিএলে মাঠে নেমেই গতি দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন

বোলিং দেখলে মনে হবে সুপ্ত প্রতিভায় ভরপুর এই ছেলে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আর দশটি লিস্ট এ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে নরসিংদীর ছেলে হোসেন আলির। সব মিলিয়ে উইকেট সংখ্যা মাত্র ১৬টি।

এনসিএল ও ডিপিএল খেলার আগে জাতীয় দলের নেটে নিয়মিত বল করতেন তিনি। জাতীয় দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের বেশ পছন্দের পাত্র তিনি। আর তাইতো গত বছর জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচে সাকিব-তামিমদের বিপক্ষে বল করার সুযোগ পেয়ে যান ১৯ বছর বয়সী হোসেন আলি।

এরপর ২০১৬-১৭ মৌসুমে ডিপিএলে গাজী গ্রুপের হয়ে লিস্ট এ অভিষেক হয় তার। আর সেখানে নাসির-মমিনুলদের মত তারকাদের সাথে খেলেছেন তিনি। তার বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েই রাজশাহী কিংস দলের হয়ে বিপিএল অভিষেক হয় তার। তবে সিলেটের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচটিতে তেমন পারফর্ম করতে পারেনি এই তরুণ।

সেই সঙ্গে ১৪০ কিমিঃ গতিতে নিয়মিত বল করেন এই তরুণ হোসেন আলি। এছাড়া ন্যাচারার আউট সুইংয়ের পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদের ভড়কে দেয়া বাউন্সার তো আছেই।

বিপিএলের গত আসরে ১৭ বছর বয়সী আফিফ হাসানকে সুযোগ দেয় রাজশাহী কিংস। আর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রাতারাতি চমক দেখান তিনি। আফিফ হাসানের মত এবার হোসেন আলির মত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেয়ায় প্রশংসা পেতেই পারে রাজশাহী কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

‘একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনও ক্ষতি হবে না’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উত্তাপকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চান্দিকা হাতুরুসিংহের পদত্যাগ ইস্যু। বিপিএলের ঢাকা পর্বকে সামনে রেখে অনুশীলনে ঘাম ঝরানো ক্রিকেটাররাও কথা বলছেন প্রধান কোচের পদত্যাগ নিয়ে। সিলেট পর্ব শেষে দু’দিনের বিরতির পর মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএলের ঢাকা পর্ব। ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী কিংস।
রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচটিকে সামনে রেখে শুক্রবার দলের সাথে অনুশীলন করেন রংপুরের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিস। অনুশীলন শেষে কথা বলেন গণমাধ্যমের সাথে। সেখানেও ঘুরেফিরে উঠে আসে হাতুরুসিংহের পদত্যাগের প্রসঙ্গটি। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান জানান, একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনও ক্ষতি হবে না।
এ প্রসঙ্গে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘চান্দিকা ভাল কাজ করছিলেন এবং তার সাফল্যের হার ভাল ছিল। কিন্তু তিনি যদি কাজ করতে না চান বা তার যদি চুক্তিসংক্রান্ত কোনও জটিলতা থাকে, তাহলে তিনি চলে যেতেই পারেন। এমন নয় যে, তিনি না থাকলে কেউ প্রধান কোচ হবেন না। নিশ্চয় কেউ দায়িত্ব নেবে। ওনার জন্য শুভ কামনা রইল। আমি মনে করি, একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোনও ক্ষতি হবে না।’
হাতুরুসিংহের অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট সাফল্যের দেখা পেলেও তাকে কৃতিত্ব দিতে নারাজ নাফিস। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৪ টেস্ট, ৭৫ ওয়ানডে ও একমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলা নাফিস মনে করেন, কৃতিত্বের দাবিদার দলের ক্রিকেটাররা। বলেন, ‘তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ভাল খেলেছে। মূল খেলাটা কিন্তু ক্রিকেটাররাই খেলেন। ওনার অধীনে যা হয়েছে, তার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকেই এসেছে। বোর্ডও যেহেতু কোথাও চলে যাচ্ছে না, ক্রিকেটাররাও কোথাও চলে যাচ্ছে না। আশা করছি, বাংলাদেশ দল যে সফলতার পথে ছিল, সেখানেই থাকবে।’
জয় দিয়ে এবারের বিপিএলে যাত্রা শুরু করেছে রংপুর। নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসকে ছয় উইকেটে হারায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। তবে পরের ম্যাচে মাশরাফি-নাফিসদের সঙ্গী হয়েছে পরাজয়। সিলেট পর্বের শেষদিন চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে হেরেছে ১১ রানের ব্যবধানে। তবে ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচ দিয়েই জয়ের ধারায় ফিরতে চান নাফিস, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা শেষ ম্যাচটা হেরেছি। তাসকিনের ওই একটা ওভার ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। পরবর্তী ম্যাচ জিতে আমরা আবার জয়ের ধারায় ফিরব।’

একসাথে ডাবল সুখবর বাংলাদেশের জন্য

কনো সন্দেহ নেই বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এবং বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। বিপিএল শুরু হয়ে গেলেও এখনও মাঠে নামা হয়নি দেশের ক্রিকেটের এই বড় দুই তারকার।

বিপিএলের ঠিক আগ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে আসে বাংলাদেশ জাতীয় দল। তারও আগে ইনজুরির কারণে তামিম-মোস্তাফিজকে দেশে ফিরতে হয়েছিল। খেলতে পারেননি জাতীয় দলের সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে।

বিপিএলের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। সিলেটের পর এবার বিপিএল ফিরছে মিরপুরে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) স্বাগত জানাতে এখন

পুরোপুরি প্রস্তুত মিরপুর শের-ই-বাংলার মাঠ। সিলেট পর্বের পর শনিবার (১১ নভেম্বর) থেকে দেশের হোম অব গ্রাউন্ডে মাঠে গড়াবে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব।

আর ঢাকা পর্বেই দেখা মিলতে পারে দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এবং কাটার স্পেশালিস্ট ‘দ্য ফিজ’ খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমানের। তামিমকে ঢাকা পর্বে দলে পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান,

‘ফেরার পুরো সিদ্ধান্তই নির্ভর করছে তামিমের ওপর। আমরা অবশ্য তাকে কিছু করতে বাধ্য করছি না। সে খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেই খেলতে পারবে। তবে আশা করছি তাকে ঢাকা পর্বেই দেখতে পারব। আর তাকে নিয়ে এই মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে চাই না।’

এদিকে, রাজশাহী কিংস মারফত জানা যায়,

‘মোস্তাফিজুর রহমান কিংসের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে দলের বাকিদের সঙ্গে তিনি অনুশীলন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের সময় চোট পাওয়ার পর তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করেন। তার অবস্থা এখন ভালো। তার সেরে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কিছু করা হবে না বলে কিংস পরিবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। কারণ সে দেশের সম্পদ। তাই পরিপূর্ণভাবে সেরে ওঠাকেই আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

এদিকে শেষ হলো বিপিএলের রোমাঞ্চকর সিলেট পর্ব। চার-ছক্কার ঝড় দুইদিন বিরতির পর ফিরছে শের-ই বাংলায়। নিজ শহরে দুর্দান্ত খেল দেখিয়েছে সিলেট। এবার খেলা দেখানোর পালা ঢাকার। ঢাকা পর্বে লড়াইটা জমজমাট হবে এটাই আশা পুরো দেশের তবে তা আগামী ১১ তারিখেই জানা যাবে।

ঢাকা পর্বের উদ্বোধনি দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী – রংপুর। আর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক ঢাকা। তাদের প্রতিপক্ষ উড়তে থাকা সিলেট সিক্সার্স।

একনজরে দেখুন ঢাকা পর্বের প্রথম ধাপের সময়সূচী

তবে পূর্বে প্রকাশিত এই সময়সূচীতে আংশিক পরিবর্তন এনেছে বিসিবি। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিনই খেলাগুলো শুরু হবে দুপুর ১:০০ ও সন্ধ্যা ৬:০০ এ।

এইমাত্র পাওয়া খবরঃ হাতুরুসিংহের পরিবর্তে নতুন কোচের নাম প্রকাশ

হঠাৎ করেই বাংলাদেশের কোচের পদটা ছেড়ে দিলেন কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে। আর তাতে বোর্ডের মত অবাক খালেদ মাহমুদ সুজনও। গুঞ্জন আছে আপাতত অন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে সাবেক এই অধিনায়ককে।

হাতুরুসিংহের পদত্যাগের খুব শুনে সুজন বলেন, ‘খুব সারপ্রাইজ। আমি নিজেও অবাক হয়েছি। যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলাম। পাঁচদিন ওখানে থেকেছি। এমন কোন কথাই হয়নি। কালকে শুনে অনেক অবাক হয়েছি। ও আসবে কিনা এখনো নিশ্চিত না। যতদূর শুনলাম পদত্যাগ করেছে।’

আপাতত সুজনের নামও কোচ হিসেবে আসলে সেই ব্যাপারে খোলাসা করেননি ঘরোয়া ক্রিকেটের গুণী এই কোচ। তিনি বলেন, ‘এটাতো আমি জানিই না। এটা নিয়ে কোন কথা হয়নি। মানুষ কি বলছে সেসব বিষয় না। বোর্ডে এটা নিয়ে আলোচনা হবেই। অবশ্যই আমরা চাইবো বাইরে থেকে ভালো কাউকে আনতে। আমার নাম আসছে, আজকে শুনলাম একজনের কাছ থেকে। আমি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত নই। এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। বোর্ড সভাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা ভালো কোচের দিকেই যাবো। আমার ব্যাপারটা আমি শিওর না।’

যদিও ব্যক্তিগতভাবে সুজন মনে করেন, বাংলাদেশ দলে দেশি কোচের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা এখনই হবে বলে তার মনে হয় না, ‘আমি অনেক আগে থেকেই বলি, আমাদের দেশি কোচের প্রয়োজন আছে। তারপরও এটা চিন্তার ব্যাপার ও সময়ের ব্যাপার আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনের দিকে এগুবে আমরা সবাই সেটাই চাই। সারাদেশের মানুষই চায়। সেভাবে বোর্ড চিন্তা করবে। এর আগে আমি ছিলাম, সালাউদ্দিন ছিল। স্থানীয় কোচতো অবশ্যই প্রয়োজন আছে, যোগাযোগের উন্নতি থেকে শুরু করে সব বিভাগেই এর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের স্থানীয় কোচদের মধ্যে অনেকেই আছে আত্মবিশ্বাসী এবং অনেক বেশি যোগ্য। আসলে এটা সময়েই বলে দেবে কি হবে।’

সুজন অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাতুরুসিংহের অবদানটা ভুলে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট হাথুরুসিংহে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেট আজকের এখানে আসার পেছনে তার অবদান অনেক। বোর্ড হয়তো তার সঙ্গে কথা বলবে, বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করবে।’

ভেতরের কোনো মনোমালিন্যই কি কোচের পদত্যাগের কারণ? – এমন প্রশ্নে অবশ্য খু্বই কুটনৈতিক জবাব দিলেন তিনি, ‘আমি পাইনি তেমন কিছু। পরিবারে অনেক সময় এমন অনেক কিছুই হয়। সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে তারা অনেকদিন ধরে খেলছে, তাদের কিছু মতামত হয়তো থাকে। অনেক সময় টিম বানাতে গিয়ে কারও সঙ্গে কারও দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু সেটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ওইরকম বড় কিছু আমি কখনোই দেখিনি। আমি তো তিন-চারটা সিরিজে ছিলাম না। এর মধ্যে যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে আমি জানি না।’