ট্রাকের ধাক্কায় নিহত দুই ভারতীয় অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক : প্রাইভেট কারের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হলেন দুই ভারতীয় অভিনেতা। মুম্বাই-আহমেদাবাদ জাতীয় সড়কে শনিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই অভিনেতা হলেন- গগন কাঙ ও অরিজিত লাভানিয়া। তারা দুজনেই কালারসে সম্প্রচারিত পৌরানিক শো ‘মহাকালী-অন্থ হি আরম্ভ হ্যায়’- এর অভিনেতা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, গুজরাটের উম্বারগাঁও থেকে দুদিনের শুটিং শেষ করে ফিরছিলেন নিহত গগন কাঙ ও অরিজিত লাভানিয়া। তাদের বহনকারী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন দুই অভিনেতার একজনই। এ সময় মুম্বাই-আহমেদাবাদ জাতীয় সড়কে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায় তাদের গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই অভিনেতার।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে অভিনেতাদের বহনকারী গাড়িটির ছাদের একটা অংশ উড়ে যায়। সিরিয়ালের দুই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন শো-য়ের প্রোডিউসার সিদ্ধার্থ কুমার তিওয়ারি।
দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে পালঘাড় জেলার মানোর থানার পরিদর্শক মহেশ পাটিল জানান, ‘গাড়ির মধ্যে থেকে বিয়ারের ক্যান ও বিভিন্ন স্ন্যাক্সের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আপাতত দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িটিও।’

কারিনার প্রেমে মজেছিলেন ভারতের বিখ্যাত যে ক্রিকেটার!

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের ক্রিকেট দলের ওপেনার শেখর ধাওয়ান এখন স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তিনটি টেস্ট থেকে ধাওয়ান ৩৫৮ রান করেছেন।
ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতেও শিখরের ব্যাট কথা বলেছে। ১৩২ রান করেছেন তিনি। এমন সময় একটি সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের অভিনেতা ও অভিনেত্রীর নাম জানিয়েছেন।
শেখর ধাওয়ানের পছন্দের অভিনেতা আমির খান। বিরাট কোহলিরও পছন্দের নায়ক আমির। ধাওয়ানের পছন্দের অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। কারিনার প্রেমেই একসময়ে মজে ছিলেন তিনি। এখন অবশ্য সময় বদলে গেছে। শেখর ধাওয়ান বিয়ে করে ফেলেছেন। কারিনা কাপুরও তাই। এখন তারা যে যার মতো রয়েছেন।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের পরবর্তী ম্যাচ পাল্লেকেল্লেতে। চলতি সিরিজে শ্রীলঙ্কা চেনা ছন্দে ধরা দেয়নি। টেস্টের পরে ওয়ানডেতেও শ্রীলঙ্কার ভরাডুবি চলছে।

কৈশরে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন কঙ্গনা রানাউত

বিনোদন ডেস্ক : কঙ্গনা রানাউত সব সময়ই সরাসরি কথা বলতে ভালোবাসেন। আর এর জন্য বলিউডে তার বেশ সুনাম রয়েছেন। সত্য কথা বলতে ছাড় দেন না। নিজের অতীত জীবন নিয়ে বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না এ অভিনেত্রী।
এর আগে কঙ্গনা জানিয়েছিলেন, তার বাবা-মা চাননি তিনি পৃথিবীতে আসুক। জন্মের অনেক পরে বিষয়টি জেনেছিলেন কঙ্গনা। তারকা হওয়ার পর তার এমন স্বীকারোক্তিতে বাহবা দিয়েছেন ভক্তরা। এবার অতীতের আরেকটি বিষয় সবার সামনে উন্মোচন করলেন এ অভিনেত্রী।
কৈশরে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি অকপটে সম্প্রতি কঙ্গনা বলেছেন একটি সাক্ষাৎকারে।
বলিউডভিত্তিক এ ওয়েবসাইটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, আমার মনে হয় প্রতিটি মেয়েরই শিশুকালে কিংবা কৈশরে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা শেয়ার করতে পারেন না কেউ। কিন্তু শেয়ার না করতে পারলে নারীরা পিছিয়ে পড়বে। আর তাদের উপর নিপীড়ন চলতেই থাকবে। যেকোনো নির্যাতনেরই প্রতিবাদ করা উচিত। আমি নিজেও কৈশরে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় আমার প্রাইভেট শিক্ষক একদিন আমার শরীরে হঠাৎ হাত দিয়ে বসেন। প্রথমে আমি বুঝিনি। কিন্তু পরে বিষয়টি বুঝে তাকে তখনই একটি চড় মারি। এরপর সেই শিক্ষককে ঘর থেকে বের করে দিই। বিষয়টি পরিবারকেও জানিয়েছিলাম আমি। সুতরাং, যেকোনো নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে হবে। পরিবারকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বা অক্ষয় কুমার

বিনোদন ডেস্ক : অন্তঃসত্ত্বা অক্ষয় কুমার! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। অন্তত দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ এর প্রোমোতে এমনই অবস্থায় দেখা গিয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেতাকে। নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে সেই শো এর প্রোমোর প্রথম ক্লিপিংস শেয়ারও করেছেন অক্ষয়। তবে এই ঘটনার নেপথ্য কারণ হচ্ছে, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ছোট পর্দায় ফিরছেন অক্ষয়। সেখানে দর্শককে অভিনব কিছু একটা উপহার দিতেই এই নয়া উদ্যোগ।
দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ এ অক্ষয়কে দেখা যাবে বিচারকের আসনে। প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, অন্তঃসত্ত্বা অক্ষয়ের আল্ট্রাসাউন্ড হচ্ছে। তাঁর গর্ভে রয়েছে ছটি সন্তান। সেখানে দেখা যাচ্ছে অক্ষয়কে তার অনস্ক্রিন স্ত্রী অতিরিক্ত আহ্লাদ দিয়ে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
এমন প্রমোর পর ধরেই নেওয়া যায় একটি মারাত্মক হাসির শো দর্শকরা ফের উপহার পেতে চলেছেন অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই। এদিকে অক্ষয় যেমন অ্যাকশন ছবিতেও পারদর্শী, তেমনই তার কমিক-টাইমিংও যথেষ্ট প্রশংসনীয়।
আর সেই প্রতিভাই এবার প্রকাশ পাবে এই শো-তে।

বলিউডের তারকারা যারা সম্পদের দিক দিয়ে শীর্ষে

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডে তারকাদের নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই দর্শকদের। তাদের লাইফ স্টাইল, চলাফেরা, বিয়ে, সম্পত্তি ইত্যাদি জানতে উৎসুক থাকেন ভক্তরা।
আর বলিউড ক্যারিয়ারে শুধু গ্ল্যামার আর মেধা নয় সম্পদের দিক দিয়েও যারা শীর্ষে আছেন তেমনি কয়েকজন অভিনেত্রীর তথ্য তুলে ধরা হল-
১. ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন :
বলিউডের বচ্চন পরিবারের বধূ তিনি। সাবেক বিশ্ব সুন্দরী তিনি। দারুণ দারুণ সব ব্যবসা ছবি উপাহার দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আবারও পর্দায় তিনি নিয়মিত হয়েছেন দীর্ঘ পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে। এই অভিনেত্রীর বর্তমানে মোট সম্পত্তির মূল্য ৩৫ মিলিয়ন ডলার
২. আমিশা প্যাটেল :
কাহ না প্যায়র হ্যায়’খ্যাত এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন হয় পর্দায় নেই। দারুণ আলোচিত এই অভিনেত্রীর বর্তমানে মোট সম্পত্তির মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলার।
৩. অমৃতা রাও :
বলিউডের এই অভিনেত্রী বর্তমানে মোট সম্পত্তির মূল্য ২০ মিলিয়ন ডলার। বলিউডে তেমন একটা আলোচনায় না থাকলেও দক্ষিণে তার জুড়ি নেই। ম্যায় হুনা ছবিতে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
৪. কাজল দেবগণ :
সিমরানখ্যাত এই অভিনেত্রীকে এখন আর আগের মত পর্দায় দেখা যায়না। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিরতির পর গেল বছর তিনি পর্দায় কামব্যক করেন শাহরুখ খানের সাথে ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার মাধ্যমে। শোনা যাচ্ছে আবারো তিনি পর্দায় নিয়মত হবেন। বর্তমানে এই নায়িকার মোট সম্পত্তির মূল্য ১৬ মিলিয়ন ডলার।
৫. ইলিয়ানা ডিক্রুজ :
বলিউডের দারুণ একজন অভিনেত্রী তিনি। বার্ফি ছবির মধ্য দিয়ে তার বলিউডে অভিষেক হয়। অনিয়মিত হলেও আলোচনায় তিনি প্রায় থাকছেন। এই অভিনেত্রীর মোট সম্পত্তির মূল্য ১৪ মিলিয়ন ডলার।
৬. কারিশমা কাপুর :
বলিউডের এক সময়কার ১ নম্বর নায়িকা তিনি। বেশ দাপুটে ও ব্যবসা সফল সব ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। ফ্যাশানের কারণে তার রয়েছে আলাদা প্রশংসা। কিছুদিন আগে তার দীর্ঘ বিবাহিত জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। শোনা যাচ্ছে তিনি পর্দায় ফিরে আসবেন। এই নায়িকার মোট সম্পত্তির মূল্য ১২ মিলিয়ন ডলার।
৭. প্রীতি জিনতা :
অনেকদিন হয়ে গেছে তিনি পর্দায় নেই। তবে আলোচনায় তিনি আছেন সবসময়ই। গেল ক’দিন আগে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে এখন তিনি পুরোদস্তুর একজন গৃহিনী। তিনি আইপিএলে একটি দলও কিনেছেন। তাই আইপিএল উপলক্ষে ভারতে স্বামীকে নিয়ে আসেন। মিষ্টি হাসির এই অভিনেত্রীর মোট সম্পত্তির মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার।
৮. মল্লিকা শেরাওয়াত :
মার্ডারখ্যাত এই অভিনেত্রী বর্তমানে পর্দায় ব্যস্ত না হলেও তার সম্পদের পরিমাণ কিন্তু কম নয়। জানা গেছে এই অভিনেত্রীর মোট সম্পত্তির মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার।
৯. ডিম্পল কাপাডিয়া :
একসময়কার সাড়া জাগানো এই অভিনত্রী বর্তমানে পর্দায় নেই। তাতে কি? বলিউড কিন্তু তাকে ভুলছেন না। বলিউডে অবস্মরণীয় এক নায়িকা তিনি। বর্তমানে তার মোট সম্পত্তির মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া :
বলিউড জয় করে বর্তমানে হলিউড জয় করার মিশনে আছেন এই নায়িকা। সম্প্রতি তিনি পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। এছাড়াও আরো অনেক পুরস্কার তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে। তিনি সাবেক বিশ্বসুন্দরীও বটে। এই সাবেক বিশ্ব সুন্দরীর সম্পদের পরিমাণ জানেন কি? জানা গেছে তার মোট সম্পত্তির মূল্য ৮ মিলিয়ন ডলার।

প্রিয় মানুষের এমন কিছু আচরণ দেখলেই বুঝবেন সে আপনাকে বিয়ে করবে না

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : প্রতিটি সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত মিলন চায়। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দুজনের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক ঠিকঠাক থাকলেও অনেক সময় ভবিষ্যতের ভাবনায় কেউ কেউ পিছুটান দিতে শুরু করে। এতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।

সম্পর্ক টিকবে কি না, দুজনের একসঙ্গে ঘর বাঁধা হবে কি না, সঙ্গীর হাবভাবে বুঝে নিতে পারেন। প্রিয় মানুষের এমন কিছু আচরণ দেখলেই বুঝবেন সে আপনাকে বিয়ে করবে না, এবং আপনাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কতদূর। জেনে নিন কয়েকটি আচরণ সম্পর্কে:

► প্রয়োজনে পাবেন না: যখন আপনার সবচেয়ে জরুরি দরকার, তখন পাশে পাবেন না। আপনার ভালো বন্ধু হতে পারে, আপনাদের মধ্যে রসায়নটা ভালো হতে পারে, কিন্তু যখন মানসিক সমর্থন দরকার হয়, তখন সবচেয়ে দূরে চলে যায়—এমন ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী করা বিপদ।

► ভবিষ্যতের আলাপে অনীহা: আপনার সঙ্গী কি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনাগ্রহী? যখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, সে এড়িয়ে যায় বা অন্য প্রসঙ্গ তোলে? এ রকম হলে সতর্ক হতে পারেন। কারণ, আপনার সঙ্গীর মনে হয়তো অন্য কিছু। বুঝে নিতে পারেন সে হয়তো ঘর বাঁধতে আগ্রহী না!

► পরিবারের কথা লুকাবে: পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললে বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বললে যদি দেখেন আপনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বা ঝামেলা করছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক কি না ভেবে দেখতে পারেন।

► দায়িত্ব গ্রহণে অজুহাত: অনেক দিন দেখা-সাক্ষাতের পরও বিয়ের কথা তুললে অনেকেই বলে, বিষয়টি অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে বা আমার এখনো দায়িত্ব নেওয়ার সময় আসেনি। এমন অজুহাত দেখালে তার দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ জাগতে পারে।

► বিয়েবিরোধী: বিয়ের কথা বললেই যদি সঙ্গীর অস্বস্তি শুরু হয় আর তার তালিকায় যদি বিয়ে সবার শেষ থাকে বা বিয়ে নিয়ে তার ধারণা নেতিবাচক হয়, তবে অবশ্যই বিষয়টি চিন্তার। এ রকম ধারণার মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নাও হতে পারে।

► আপনার ভাবনায় অনাগ্রহী: সে কী চায় বা তার আগ্রহ নিয়ে আপনার অনেক কিছু ভাবনা হয়তো আছে, একই রকম ভাবনা তার আছে কি না খেয়াল করেছেন? আপনাকে নিয়ে তার যদি খুব বেশি আগ্রহ না থাকে, তবে সম্পর্ক নিয়ে দুবার চিন্তা করুন।

► দিন শেষে একাকী: দুজন কোথায় খেতে বা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও সঙ্গী যদি কৌশলে এড়িয়ে যায় বা আপনাকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী না থাকে, তবে সম্পর্ক কত দূর যাবে, সেটি ভাবার বিষয়।

► কখনো প্রশংসা না করা: সঙ্গীর জন্য যতই করুন, যদি তার কাছ থেকে প্রশংসা না শোনেন বা আপনাকে নিয়ে তার আগ্রহের কথা না বলে, তবে নিশ্চয়ই তার মনে অন্য কিছু আছে।

► মহড়া দেওয়া: সম্পর্কের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি আপনার সঙ্গী মহড়া দেওয়ার কথা বলে বা আগে পরীক্ষা করে পরে সম্পর্ক স্থায়ী করার কথা বলে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ, বিয়ে কোনো মহড়া বা পরীক্ষার বিষয় নয়।

► সুসময়ের বন্ধু: যদি আপনার সুখের সময় শুধু তাকে পান আর দুঃখের সময় না পান, তবে সে আপনার জন্য বিশেষ হতে পারে না। যার সঙ্গে দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন, তার সঙ্গেই কেবল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারেন। তথ্যসূত্র: টিএনএন।

ঐশ্বরিয়াকে বিছানায় পাওয়ার প্রস্তাব দিলেন হার্ভে

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এক সময় তাকে জীবনসঙ্গিনী করার স্বপ্ন দেখতেন সালমান, বিবেকদের মতো বলিউড সুপারস্টার ছাড়াও অনেক তরুণই। কিন্তু সকলের স্বপ্ন ভেঙে শেষমেষ অমিতাভপুত্র অভিষেক বচ্চনকে জীবনসঙ্গী করেন অ্যাশ।
এসব খবরই পুরোনো। নতুন খবর হলো, ঐশ্বরিয়াকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন হলিউডের এক নামি পরিচালকও। তিনি হার্ভে উইনস্টেইন। তবে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে নয়, অ্যাশকে শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেইমত ঐশ্বরিয়ার সাবেক ম্যানেজার সিমন ফিল্ডের কাছে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন হার্ভে। এমনকি, মোটা অংকের অর্থ প্রস্তাবও করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এমন রগরগে তথ্য ফাঁস করেছেন ঐশ্বরিয়ার সাবেক ম্যানেজার সিমন নিজেই।
অনেক হলিউড-বলিউড তারকাদের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন সিমন ফিল্ড। সেই সূত্র ধরেই ঐশ্বরিয়ার ম্যানেজার থাকাকালীন পরিচালক ও প্রযোজক হার্ভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নায়িকাকে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ঐশ্বরিয়াকে বিছানায় পাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বসেন হার্ভে। তবে সে যাত্রায় কৌশলে ঐশ্বরিয়াকে রক্ষা করেছিলেন সিমন।
সাবেক ম্যানেজার সিমন ফিল্ডের ফাঁস করা এমন তথ্যের ব্যাপারে অবশ্য এখনও কোনও মন্তব্য করেননি ঐশ্বরিয়া কিংবা বচ্চন পরিবার। ধারণা করা যাচ্ছে, শিগগিরই এ নিয়ে মুখ খুলবেন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী।
সম্প্রতি হলিউডের খ্যাতিমান এ পরিচালক ও প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলছেন হলিউডের একাধিক নায়িকা। তাদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ইভা গ্রিন ও গেনিথ পাল্টোদের মতো অভিনেত্রীরাও আছেন। যে কারণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ওয়েইনস্টাইন কোম্পানি’ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন হার্ভে।

কে বেশি সেক্সি ? পুরুষ না নারী ?

কিভাবে যৌনতাকে আরও উৎকর্ষতর করে তোলা যায়। মানুষ এর অনুসন্ধান শুরু করেছিল সেদিন হতে যে শুভ মুহূর্তটিতে তার মানব প্রেয়সীর সাথে যৌনতার শুভ সুযোগ এসেছিল। যৌনতার মত উপভোগ্য দ্বিতীয় আর কিছুই নেই। যৌনতার মাঝেই নাকি স্বর্গীয় সুধার দোয়া পাওয়া যায়। এ কারণে মানুষ যৌনতার প্রথম দিন হতে সে অমৃত উপাদানটির সন্ধান করেছে যা তার যৌনক্ষমতাকে আরও উৎকর্ষতর করে তুলবে যাতে সে অনেক বেশি তৃপ্তি নিয়ে যৌনতাকে উপভোগ করতে পারবে। সে যৌনতা বৃদ্ধিকারক অমৃত উপাদানটি কি? এ কৌতূহল সার্বজনীন!

এ নিয়ে নানান মুনির নানান মত। বাঘের দুধ বা গন্ডারের শিং হতে তৈরি পাউডার-এর মত দুষ্প্রাপ্য নমুনাও এসেছে এ অমৃতের সূত্র ধরে। এ অমৃত উপাদানটির যদি তালিকা তৈরি করা হয় তা কখনো শেষ করা যাবেনা। এ নানান উপাদানগুলো কি আসলেই যৌনতার উপর কোনো প্রভাব রেখে থাকে? আসলে এগুলো কাজ করে কিনা সে সম্পর্কে কোনো প্রকারের বিজ্ঞান গবেষণা চালানো হয়নি। সুতরাং আসল তথ্য সবার কাছে অজানা রয়ে গেছে। পুরো ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে স্রেফ অনুমান নির্ভর। যেমন- পুরুষাঙ্গের সাথে আকারগত সাদৃশ্যতা আছে বলে ধারণা করা হয়। কলা যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক। খোঁজ নিলে আশেপাশে এ ধরনের হাজারো উদাহরণ পাবেন। সমস্যা হলো- মানব মনের দুর্বল দিক বাণিজ্যের কাছে পড়ে যায় বারংবার। যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর এ কথিত অমৃত উপাদানটিকে ঘিরে অস্পষ্টতা আর রহস্যময়তা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত নানান প্রবঞ্চনা আর প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দেয়। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে পণ্যের যৌনতা উৎকর্ষতাকারক ক্ষমতার উদ্ধৃতি দেন প্রায়ই। দুর্বল মানব মন ক্রমশ এর দিকে ঝুঁকতে থাকে। ক্রমে ক্রমে অবস্থা এমন দাঁড়ায় প্রায় সব পণ্যরাই এ মহাগুণের অধিকারী হতে দেখা দেয়। এমন ঘটনা ঘটেছিল পাশ্চাত্যের মার্কিন বাজারে। ব্যাপারটা এতটা ব্যাপক রূপ নেয় যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন খাদ্য আর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এফ ডি এ (ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশান) কে এতে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ১৯৯০ সালের ৬ জানুয়ারি এ প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দেয় যে কোনো ধরনের পণ্য তা ওষুধ বা খাবার যেমনটিই হোক তাতে ‘যৌনতা উদ্দীপক’ বা ‘যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিকারক’ এ জাতীয় কোনো মন্তব্য যেনো লেখা না থাকে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হলো যৌনক্ষমতা সত্যিকারভাবে বাড়াতে পারে এ জাতীয় কোনো ওষুধ লোশন বা উপাদান এখনো তৈরি হয়নি।

অবশেষে সমাধান!

সিফিলিস! এক নামেই সবার কাছে পরিচিত। যৌনবাহিত রোগ বিধেয় এটিকে ঘিরে সবারই কমবেশি কৌতূহল। এ রোগের ইতিহাস বেশ পুরনো। ইউরোপীয়ানরা পঞ্চদশ শতাব্দী হতে এর সাথে পরিচিত হয়ে আসছে। যৌনসঙ্গম দ্বারা যে এ রোগ ছড়ায় এটি তাদের ধারণা ছিল কিন্তু এটি যে এক ধরনের জীবাণু ঘটিত সেটি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। সে সময়ে সিফিলিসকে ঘিরে ইউরোপীয়ান নানান দেশের মাঝে একটা সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ রোগটির জন্য তারা একেক জন একেক জনকে দোষারোপ করতে থাকে, কেউ এর দায়িত্ব নিতে চায় না।

মজার ব্যাপার হলো- সিফিলিস নামকরণের আগে রোগটিকে ইউরোপের একেক দেশে একেক নামে ডাকা হত। ফরাসীরা এ রোগটির নাম দিয়েছিল নেপলস রোগ। সে সময়ে ইতালীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহরটির নাম ছিল নেপলস। ইতালীয়রা বলতেন ফ্রান্স ডিজিস নামে। ইতালী আর ফ্রান্সের এ পারসপরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মত অবস্থা ছিল স্পেন আর ইংল্যান্ডের মধ্যে। ইংল্যান্ডবাসী এর দোষ স্পেনিশদের উপর চাপাতেন। স্পেনিশরাও স্বভাবতই ইংল্যান্ডের উপর এ অপবাদ দিতেন সুতরাং নাম দেয়ার বেলাতে ইংল্যান্ডবাসীরা বলতেন স্পেনিশ রোগ আর স্পেনীয়রা বলতেন ‘ইংলিশ রোগ’ পরসপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি কতটা মারাত্মক আকার নিয়েছিল এটি তার একটা নমুনা।

এ জাতিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি অবশ্য বেশি দিন ছিল না। এক ইতালীয় কবি এ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটান। অবশ্য তিনি নিজে মাথা পেতে নেননি বা আর কারোর উপর চাপাননি। তিনি ১৫৩০ সালে মেষ পালককে নিয়ে একটা কবিতা রচনা করেন। ঐ মেষপালকের নাম ছিল সিকাইলাম। কবিতার ঘটনা ছিল- দেবতা এপেলোকে অপমান করার কারণে দেবতা এ রাখাল মেষপালককে এ রোগের অভিশাপ দেয়। রাখাল সিকাইলাম এ ধীকৃত রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান। তখন থেকে এ রোগের নাম হয় সিফিলিস। যাক, অবশেষে সবারই রক্ষে!

অবিশ্বাস্য সূত্র

আমরা এতদিন শুনে এসেছি আমাদের মনের যে যৌন শিহরণ বোধ তার মূল উৎস হল সেক্স হরমোন। পুরুষদের বেলাতে টেস্টোস্টেরন আর মহিলাদের বেলাতে এস্টোজেন প্রজেস্টেরন। পুরুষ আর মহিলাদের বেলাতে যথাক্রমে শুক্রাশয় আর ডিম্বাশয় এ সেক্স হরমোনের ক্ষরণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ সেক্স হরমোনের প্রভাবে বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর দেহে সেকেন্ডারি সেক্স বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে। যৌবনের বন্যা বয়ে যায়। এটি একদম স্বতঃসিদ্ধ।

সাম্প্রতিক গবেষকরা এর পাশাপাশি এক অভিনব নতুন তথ্য দিচ্ছেন। আমাদের মনের যৌনতাড়না বোধ বা লিবিডো এর মূল নিয়ামক হলো এ টেস্টোস্টেরন বা টেস্টোস্টেরনজাত ক্ষরণগুলো। শেষোক্তগুলোকে এন্ডোজেনও বলা হয়। এটি পুরুষ আর মহিলা দু’জনার বেলাতেই প্রযোজ্য। লিবিডো শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো যৌন কামনা বাসনা। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড এ লিবিডোকে মানবের মূল চালিকা শক্তি বলে এমন অভিমতও করেছিলেন। পুরুষ দেহে না হয় শুক্রাশয় হতে ক্ষরিত হয়ে সহজাতভাবে বর্তমান থাকে এ টেস্টোস্টেরন। মহিলা দেহে টেস্টোস্টেরন বা এন্ড্রোজেন আসবে কোথা হতে? তাহলে মহিলাদের লিবিডো নিয়ন্ত্রিত হয় কিভাবে? গবেষকরা মহিলাদের রক্তস্রোতে সূক্ষ্ম মাত্রার এন্ড্রোজেনের উপস্থিতি দেখেছেন- এর মাত্রা পুরুষদের তুলনায় হাজার ভাগেরও কম। এত কম মাত্রার এন্ড্রোজেন কি শারীরবৃত্তীয় প্রভাব রাখতে পারে? অথচ পুরুষ আর নারীর লিবিডোর মাঝেতো বিস্তর ফারাক নেই। এতটা সূক্ষ্ম মাত্রার এন্ড্রোজেন নিয়ে মহিলারা পুরুষদের সমপর্যায়ের লিবিডোর অধিকারী হলো কিভাবে?

গবেষকরা এ প্রশ্নের জবাব দেন ভিন্ন আঙ্গিকে। গবেষকদের ব্যাখ্যা মহিলা দেহে ক্ষরিত টেস্টোস্টেরন আর এন্ড্রোজেন মাত্রা কম হতে পারে, কিন্তু মহিলা দেহ এর প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল। একারণে সূক্ষ্ম মাত্রাও অনেক বেশি শারীরবৃত্তীয় প্রভাব তৈরি করে থাকে, মহিলা দেহের এড্রিনাল কটেক্স নামের হরমোন গ্রন্থি হতে এ এন্ড্রোজেন ক্ষরিত হয়। (পুরুষ আর মহিলা উভয়ের বেলাতে ডান বা বাম উভয় বৃক্কের উপরিভাগে এড্রিনাল কটেক্স হরমোন গ্রন্থি বিদ্যমান।) পাশাপাশি ডিম্বাশয় নিজেও সামান্য মাত্রার টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ করে থাকে।

এ সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত তথ্যের ব্যবহারিক প্রয়োগ হচ্ছে রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী হরমোন থেরাপিতে। রজঃনিবৃত্তিকালে অনেক মহিলা যৌন ইচ্ছে কমে যাবার কথা বলে থাকেন। সাম্প্রতিককালে মহিলাদের রজঃনিবৃত্তিকালীন হরমোন থেরাপিতে ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন পাশাপাশি পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে নাকি হরমোন থেরাপির উপযোগিতা অনেক বেশি বেড়ে যেতে দেখা গেছে।

পর্দার অন্তরালে

পঞ্চাশের দশক হতে আলফ্রেড কিংসে মানুষের যৌনাবরণের উপর যে গবেষণা শুরু করেছিলেন, তা আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত নানান নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত করছে। তা আমাদেরকে এমন সব তথ্যের মুখোমুখি করছে যার অনেকগুলো আমরা কখনো কল্পনাতেই আনিনা। হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? সবারই একদম বদ্ধমূল বিশ্বাস সমকামিরা পায়ুকাম চর্চা করে থাকে আর এটিই তাদের একমাত্র যৌনতা। যৌনসমীক্ষকদের চালানো গবেষণাতে দেখা গেছে, পায়ুকাম কিন্তু সমকামিদের মুখ্য বা একমাত্র যৌনতা নয়, যে যৌনতা তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হল মাস্টারবেশন পক্রিয়াতে পরস্পরকে উত্তেজিত করে তোলা। এটিকে যৌন বিজ্ঞানের পরিভাষাতে ‘মিউচুয়াল মাস্টারবেশন’ বলা হয়। সমীক্ষণে আরেকটি লক্ষণীয় দিক হলো পায়ুকাম চর্চা কেবলমাত্র সমকামীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ দম্পতিদের অনেকেই এটির কমবেশি চর্চা করে থাকেন। অন্তত গবেষণাতে এটি দেখা গেছে। সমকামীদের যে পারস্পরিক স্বমেহন বা মিউচুয়াল মাস্টারবেশনে- এটিতো পুরুষ আর নারী সমকামী দু’জনার বেলাতে সমভাবেই চর্চা করতে দেখা যায়। নারী সমকামিদের বেলায়তো পায়ুকামের কোনো অবকাশ নেই, সুতরাং ওদের নিয়ে আমাদের ধারণাটি নিয়ে পুনর্বার বিবেচনা করা উচিত।

সাধারণদের মাঝে যারা এ পায়ুকাম চর্চা করে থাকেন তারা কারা? তাদের সংখ্যাই বা কেমন? আমেরিকার বহুল প্রচারিত নারী পত্রিকা বেডবুক ম্যাগাজিন পরিচালিত গবেষণাতে এক লক্ষ মহিলার সমীক্ষণ নেয়া হয়। এতে অংশ নেয়া মহিলাদের তেতাল্লিশ শতাংশ স্বীকার করেছে তারা দাম্পত্য যৌনতায় অন্তত একবার এটির চর্চা করেছেন। যারা এটির চর্চা করেছেন তাদের চল্লিশ শতাংশের অভিমত- এ পায়ুকাম যৌনতা বেশ উপভোগ্য, অন্তত ভিন্ন স্বাদের। পঞ্চাশ শতাংশের ভাষ্য-তারা এর মাঝে কোনো বিশেষ স্বাদ পাননি। দশ শতাংশের অভিমত তারা নিতান্ত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র স্বামীদের পীড়াপিড়িতে এতে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। এ সমীক্ষণ তথ্য আশা করি পাঠকদের পর্দার অন্তরালের কিছু তথ্য সম্পর্কে অবগত করে তুলবে।

একটি গোপন স্থান !

অপরাধ জগত, কালোবাজার বা খুন রাহাজানির কোনো গোপন সপট এটি নয় অথবা নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত কোনো পিকনিক স্পট এটি নয়। ডঃ লাডাস, ডঃ পেরি আর ডঃ ইতপলি নামের তিনজন গবেষক এ সপটকে বিশ্বজনতার কাছে পরিচিত করে তোলেন। নারী দেহ মানচিত্রে এর অবস্থান। অবশ্যই গোপনীয় কারণ গোপনাঙ্গে এর অবস্থিতি। কৌতূহল মানব মনে এ স্পটের আবিষ্কার তোলপাড় করে তোলে সারা বিশ্বজুড়ে। এ স্পটের নাম ‘জি স্পট’ সাংকেতিক নাম। গবেষক নারী যৌনাঙ্গের যোনি গাত্রে লুকানো অতিমাত্রায় সংবেদনশীল জায়গা খুঁজে পান। যখন যৌনাঙ্গের এ অংশটি উদ্দীপিত করা হয় তা নারীর মাঝে চরমপুলকের অনুভূতি আর শিহরণ জাগায়। গবেষকত্রয় এর অবস্থানের একদম সূক্ষ্ম হিসেব বাতলে দিয়েছেন-এটি যোনির অগ্রবর্তী গাত্রের মাঝে অবস্থান করে যা মুখ হতে পাঁচ সেঃমিঃ পরিমাণ ভেতরে থাকে। আকারে শিমের বিচির মত হলেও যৌন উত্তেজনায় এর আকার বেড়ে যায়। এ স্পটের আবিষ্কার এতদিনকার প্রচলিত নানা তত্ত্বকে পাল্টে দিয়েছে। অর্গাজমকে ঘিরে মনোগবেষক সিগমন্ড ফ্রয়েড দেয়া যে তত্ত্ব আলফ্রেড কিংসে পঞ্চাশের দশকে বাতিল করে দেন আশির দশকে এ জি সপট আবিষকার ফ্রয়েড তত্ত্বকে নতুন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছে। এতো গেলো এক দিকের ব্যাপার। অপরদিকে যৌন সমীক্ষকদের মাঝেও এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। একদল তো এ সম্পর্কিত সপটের উপস্থিতিই মানতে রাজি নন। অন্যদের অভিমত নারী যৌনাঙ্গে এ জি স্পট থাকতে পারে কিন্তু সবার মাঝে নেই। এক গবেষক মাত্র দশ শতাংশ মহিলাদের বেলাতে এর উপস্থিতির কথা বলেছেন। অপর একদল বলেন প্রতি তিনজনে দু’জন মহিলার বেলাতে এর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। গবেষকত্রয় এ নানান বিতর্ক সম্পর্কে অভিমত দেন ঠিক এভাবে কোনো নারীর যৌনাঙ্গে এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে তার যৌন দৃষ্টিভঙ্গি আর যৌন সচেতনতা কেমন? এ কারণেই যতই দিন যাচ্ছে এ বিশেষ সপট অধিকারিনী নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এবার নামের রহস্য? এত নাম বাদ দিয়ে জি সপট নাম হলো কেনো? জি নামেরও রহস্য আছে কারণ গ্রাফেন বাজ নামের একজন ফরাশী গাইনোকলজিস্ট সর্বপ্রথম এর ধারণা দিয়েছিলেন। গ্রাফেনবাজ পুরুষ ছিলেন নারী নন।

স্বর্গীয় সুধা!

ইসলাম ধর্মেতো ঘোষণা দেয়া হয়েছে স্বামী স্ত্রীর মিলনের মাঝে স্বর্গের সুধা মিশিয়ে রাখা হয়েছে। পার্থিব অন্য কোনো আনন্দ অনুভূতি এতটা তৃপ্তিপ্রদ হয় না। আধুনিক যৌন বিজ্ঞানীরা এটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন? যৌন গবেষকরা তাদের গবেষণা রিপোর্টে ঠিক এমনি একটা আভাস দিয়েছেন। সত্যি সত্যিই এসব অনুভূতি অন্য সব অনুভূতি হতে অনেক পরিমাণে ভিন্ন। তাদের ভাষাতেই এর গুণের বয়ন শোনা যাক।

চরমপুলকে আসলে কি ঘটে থাকে? শারীরবৃত্তীয় সাদামাটা ভাষাতে এটি দেহের সারা দেহের এক আরামপ্রদ কুঞ্চন আর শিহরণপ্রদ সমজাতীয় কুঞ্চন যৌনতা ব্যতীত অন্য সময়ে ঘটলেতো আমাদের মনে কখনই এমন অনুভূতি আসে না। সারা দেহে ক্ষণিকের মাঝেই বেড়ে যাওয়া রক্ত সঞ্চালন। কিন্তু এ শারীরবৃত্তীয়তা মনের মাঝে এক অনন্য অনুভূতির সঞ্চার ঘটায় কেনো? মস্তিষ্ক নিয়ে যারা গবেষণা করে থাকেন নিউরোলজিস্টরা এ অনন্য অনুভূতির সূত্র দিয়েছেন। যৌনতার এ মূল ঘটনা ঘটে আমাদের মস্তিষ্কে আর এ ঘটনার স্পট হল সেরিব্রামের লিমবিক কর্টেক্স নামের অংশে। এটাকে বলা হয় মস্তিষ্কের আনন্দ কেন্দ্র বা প্লেজার সেন্টার। যৌনতার অর্গাজম বা চরমপুলকের মুহূর্তে মস্তিষ্কের এ অংশ হতে প্রচন্ডভাবে বিদ্যুৎ ক্ষরিত হতে থাকে। ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের ওপর গবেষণাতে দেখা গেছে মস্তিষ্কের এ অংশটা যখন উদ্দীপিত করা হয় ইঁদুর তখন খাবার খেতে ভুলে যায় ঘুম উধাও হয়ে যায় কিন্তু ইঁদুর সজীব সাবলীল থেকে যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিনস এর টুলিন মেডিকেল স্কুলের নিউরোলজিস্ট ডাঃ রবার্ট হীথ এমডি বলেন যখন ব্লি মস্তিষেকর লিমভিক কার্টেক্সের বিদ্যুৎ তরঙ্গ ক্ষরণমাত্রা বাড়তে থাকে তখন মনের সজ্ঞানতার স্বরূপ সাময়িকভাবে পাল্টে যায়, স্থান আর সময়ের হিসেব ভুলে গিয়ে মন অন্য এক জগতে প্রবেশ করে।

অর্গাজম বা চরমপুলক এর ফরাশী পরিভাষাতে এর সত্যিকার স্বরূপ পাওয়া যায়। যৌনতার দিক হতে ফরাশীদের অনেক বেশি শৈল্পিক ধরা হয়। ফরাশী ভাষাতে চরমপুলক বা অর্গাজমের অনুভূতির নাম হল ‘লা পোটিট মরট’- এর পারিভাষিক অর্থ হল ‘ক্ষুদ্র ক্ষণকালীন মৃত্যু’। মৃত্যুতে আত্মা তার পার্থিব দেহজ অবক্ষয় ছেড়ে উপরে উঠে যায়। যৌনতার সে চরম মুহূর্তটিতে মন হয়ত বা ভিন্ন এক আবর্তে প্রবেশ করে, হয়তবা অপার্থিব কোনো জগতে। তাইতো মনের এ অজানা শিহরণবোধ, আজকের বিজ্ঞান যৌন শিহরণের মাঝে স্বর্গীয় সুধা মিশে থাকার বিষয় স্বীকার করে থাকে।

পুরুষের ভাষা আর নারীর ভাষা!

পুরুষ আর নারীর পার্থক্য কেবলমাত্র লিঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্টাইল, মনস্তত্ত্ব, আচার-আচরণ সব জায়গাতেই দেখা যায়। ভাষা হলো যোগাযোগের মাধ্যম। দাম্পত্য যোগাযোগ যত বেশি সাবলীল হবে, দাম্পত্য জীবন ততবেশি সুখের হবে। কিন্তু বাস্তবে পুরুষ আর নারী পরসপরকে কতটা বুঝতে পারেন? মনোগবেষকদের বক্তব্য হলো-পুরুষ আর নারীর ভাষা কিন্তু এক নয়। উভয়ের প্রকাশে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান। যদি দম্পতিরা ভাষার এসব সূক্ষ্ম পার্থক্য সম্পের্েক অবহিত থাকেন তাহলে দু’জনে পরসপরের আরও কাছাকাছি আসতে পারে। পুরুষ যখন স্ত্রীর রূপের প্রশংসা করে তখন ধরে নিতে হবে তাতে যৌনতার দুরভিসন্ধি মিশে আছে। এ ধরনের কিছু নমুনা নিচে দেয়া গেলো-

আমি তোমাকে ভালবাসি। (এর সত্যিকার অর্থ- চল সেক্স করা যাক)
তোমাকে সত্যিই সুন্দর দেখাচ্ছে। (চল সেক্স করা যাক)
টিভিতে যত মহিলা দেখানো হোক না কেন, তুমি এদের যে কারোর চেয়েও সুন্দরী। টিভিতে এসব অনুষ্ঠান দেখে লাভ কি! চল বিছানায় যাওয়া যাক।
এগুলো পুরুষদের হিসেব। মহিলারা যখন ভালোবাসার কথা বলে তখন তার গূঢ় ভাবার্থ অনেক বেশি ভিন্ন। স্ত্রী যখন বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি এর মানে দাঁড়ায় স্বামীকে জিজ্ঞাসা করে নেয়া তুমি কি আমাকে ভালোবাস? যদি পুরুষ স্বামী এক্ষেত্রে তুমি আমার কাছে দেবীর মত, তুমিতো আমার স্বপ্নের নাযিকা এমন সব মন্তব্য ছুড়ে দেন তাহলে সহজেই স্ত্রীর অন্তরে গভীরতম স্থানটি ছুঁয়ে নিতে পারবেন।
পুরুষ আর নারীর ভাষার প্রকাশে এতটা বৈষম্য কেন? কারণ যৌন দৃষ্টিভঙ্গি। পুরুষরা যৌনতা আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক ব্যাপারটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। পুরুষরা যৌনতাকে রোমান্সের একটা অংশ মনে করে থাকে। মহিলারা রোমান্সকে যৌনতার একটা অংশ ধারণা করে থাকেন। আশা করি, দম্পতিরা পরসপরকে নতুনভাবে উপলব্ধি করবেন।

একটু ভাবুন

আমরা আমাদের হাত পা বা দেহের যে কোনো অংশ ইচ্ছামত নাড়াচাড়া করাতে পারি কিন্তু দেহের ঐ বিশেষ অঙ্গটার ওপর আমাদের সে ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। সামনে কোনো শিহরণ উদ্দীপক দেখলে তাতে সে সাড়া দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। আদম যখন বেহেস্তে ছিলেন তখন নাকি এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। বেহেস্তের সে নিষিদ্ধ ফল সেবন এ নিয়ন্ত্রণের মৃত্যু ঘটায়। এতে তাদের স্বর্গীয় বেশভূষা খসে পড়ে যায়। মহান প্রভু এ আদেশ লংঘনের কারণে তখন তাদের এ দুনিয়াতে পাঠিয়ে দেন। সে অবধি মানুষের এ পার্থিক জীবন। সেন্ট অগাস্টিন গ্রন্থ ‘দি সিটি অব দি জয়’ গ্রন্থে এমনি এক অদ্ভুত তথ্যের অবতারণা করেছেন। এ সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি কি? আমরা আমাদের দেহের সমস্ত অংশকে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে থাকি পুরুষাঙ্গের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই কেনো? নিজের খেয়াল খুশী মত মাথা তুলে তার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে, আমরা ইচ্ছা শক্তি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে উত্থিত বা শিথিল কোনোটাই করতে পারি না। আসলে শারীরবৃত্তিক এ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ কারসাজি। সবগুলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, তবে স্নায়ুতন্ত্রের দুটো পৃথক বিভাগ এদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমরা যে হাত পা বা অঙ্গ সঞ্চালন করে থাকি তা সোমাটিক স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের কৃতত্বাধীন। পুরুষাঙ্গের উদ্রিক্ততা বা শিথিলতা যে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তার নাম অটোনমিক স্নায়ুতন্ত্র। অটোনমিক মানে অটোমেটিক বা অটোনোমাস। দৈহিক শারীরবৃত্তি একটা স্বনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় এটি করে থাকে। চেতন মন নয় ।

—————-ডাঃ মোঃ জাকারিয়া সিদ্দিকী ।

শীতে ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী ৫টি ফেইস মাস্ক

ঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ উপকারী ফেইস মাস্ক। রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এমনই কিছু মাস্ক তৈরির পদ্ধতি দেওয়া হয়।

শীতে ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী ৫টি ফেইস মাস্ক
শীতে ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী ৫টি ফেইস মাস্ক
শীতে ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী ৫টি ফেইস মাস্ক-

টমেটো ও লেবুর মাস্ক:
এই মৌসুমে খুবই সহজলভ্য সবজি টমেটো। আর ত্বকের পোড়াদাগ দূর করে উজ্জ্বল করতে টমেটো খুবই উপকারী।

একটি টমেটো নিয়ে ভালোভাবে থেঁতলে এর সঙ্গে দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি গলায় এবং মুখে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। যা ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে কার্যকর। এই মাস্ক ব্যবহারে রোদে পোড়া ভাব দূর হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

কাঠবাদামের মাস্ক:
চার, পাঁচটি কাঠবাদাম সারা রাত দুধে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে কাঠ বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দুধ এবং বাদামের পেস্ট তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ওই পেস্ট মুখে লাগিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

এই মাস্ক ভালো নাইট ক্রিম হিসেবে কাজ করবে, যা ত্বক উজ্জ্বল করবে। তাছাড়া শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

হলুদের মাস্ক:
ত্বকের যত্নে হলুদ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উপাদান। ত্বকের যেকোনো সমস্যা দূর করে, অসম গায়ের রং স্বাভাবিক করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তিন টেবিল-চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ হলুদগুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণ ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

কলা ও দইয়ের প্যাক:
একটি পাকাকলা চটকে সঙ্গে দুই টেবিল-চামচ টক দই এবং এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিটি উপাদান খুব ভালোভাবে মিশে যায়। মুখ এবং গলায় পুরু করে মিশ্রণটি মেখে অপেক্ষা করতে হবে।

কিছুটা শুকিয়ে গেলে ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। কোমল ত্বকের জন্য সপ্তাহে দুবার এই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

ওটমিল মাস্ক:
ত্বকে জমে থাকা ময়লা এবং মৃত কোষের পরত তুলতে নিয়ম করে এক্সফলিয়েট করা জরুরি। স্ক্রাবারের সাহায্যে এক্সফলিয়েশন করতে হয়। এতে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং ত্বকে বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনাও কমায়।

চার টেবিল-চামচ ওটমিলের সঙ্গে চারটি কাঠবাদাম গুঁড়া করে মিশিয়ে নিতে হবে। সামাণ্য দুধ এবং এক টেবিল-চামচ মধু দিয়ে ওটমিল ও কাঠবাদামের মিশ্রণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মুখের ত্বকে এই মিশ্রণ লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে আলতো হাতে মালিশ করতে হবে। এতে ত্বকে জমে থাকা ময়লা এবং মৃতকোষ পরিষ্কার হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

সুন্দর ত্বক চাইলে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। আর তাই প্রতিদিন বা সপ্তাহে নিয়ম করে ত্বকের যত্নে কিছুটা সময় বরাদ্দ করে রাখা উচিত। আর এই মৌসুমে যে কোনো প্যাক ব্যবহার বা মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্বকে লাগাতে হবে। নইলে ত্বক শুষ্ক ও মলিন হয়ে যাবে।

শীতে ত্বকের বিভিন্ন ফেসিয়াল

শীতে ত্বকে রুক্ষ্ণভাবটা খুব দ্রুত চলে আসে। আর তাই এ সময় ত্বক’কে সজীব রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্নের। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনকার জীবনের অতিরিক্ত স্ট্রেস আর ক্লান্তির ছাপ দূর করতেও প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রূপরুটিন। শীতে ত্বকের এই বাড়তি যত্নে কার্যকর পদক্ষেপ দিতে পারে ফেসিয়াল। ফেসিয়ালের নানান ধরন নিয়ে এ সপ্তাহের রূপচর্চা
শহরগুলোতে এখন মোড়ে মোড়ে আছে বিউটিপার্লার। আর তাই নানান ধরনের ফেসিয়ালের জন্য নির্ভর করতে পারেন এসব বিউটিপার্লারের উপরে। তাছাড়া চাইলে বাজার থেকে ফেসিয়াল প্যাক কিনে ঘরে বসেও ফেসিয়াল করা যায়। এখানে ফেসিয়ালের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
শীতে ত্বকের বিভিন্ন ফেসিয়াল
শীতে ত্বকের বিভিন্ন ফেসিয়াল
শীতে ত্বকের বিভিন্ন ফেসিয়াল-
ক্লাসিক ফেসিয়াল:
ক্লাসিক ফেসিয়াল সাধারণত ত্বকের উপরই একধরনের সূক্ষ্ম আস্তরণ তৈরি করে। এধরনের ফেসিয়ালে ক্লিনজিং, টোনিং, নরমাল ও মেশিন ম্যাসেজ ব্যবহার করা হয়। মুখ, গাল ও চোখের তলার নরম অংশের জন্য এ ফেসিয়াল আদর্শ। এ ফেসিয়ালে ম্যাসেজের সময় কোনো ক্রিম ব্যবহার করা হয় না। ত্বক পরিষ্কার করা, ব্ল্যাকহেডস্‌ পরিষ্কার করা, টোনিং ও প্রোটেক্টিভ লোশন ব্যবহার করেই এই ক্লাসিক ফেসিয়াল করা হয়।

এরোমাথেরাপি ফেসিয়াল:
ত্বকের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল রাখা এবং ক্লান্তি দূর করতে এই ফেসিয়াল অত্যন্ত কার্যকর। এ ফেসিয়ালে এসেনসিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়। এ এসেনসিয়াল অয়েল খুব দ্রুত আপনার ক্লান্তি দূর করবে এবং নার্ভকে শান্ত করবে। এ কাজে ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে এসেনসিয়াল মিশিয়ে ক্রিমের মতো তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় যাবার আগে অবশ্যই ত্বক’কে ভাল করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এই ফেসিয়ালে ম্যাসেজ করতে হবে ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট প্রেশার পয়েন্টে।

গ্যালভানিক :
ত্বকের সহ্যক্ষমতা বাড়াতে মূলত এই গ্যালভানিক ফেসিয়াল কার্যকর ভূমিকা রাখে। যখন আপনার ত্বকে কোনো নির্দিষ্ট স্কিন ট্রিটমেন্ট চলছে তখন এই গ্যালভানিক ফেসিয়াল আপনার ত্বকের ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। যাদের ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন তাদের ত্বকে অতিরিক্ত অর্দ্রতা বাড়াতে এ ফেসিয়াল সবচেয়ে কার্যকর। পাশাপাশি ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কমাতেও এই ফেসিয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফ্লাওয়ার-পাওয়ার ফেসিয়াল:
যাদের ত্বকে টানটানভাবটা একটু কম তাদের জন্য এ ফেসিয়াল সবচেয়ে কার্যকর। ত্বকে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এ ফেসিয়াল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বয়সের ভারে ত্বক যখন ন্যুব্জ তখন এ ফ্লাওয়ার-পাওয়ার ফেসিয়াল আপনার ত্বককে সতেজ, টানটান আর মসৃণ করতে পারে। ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি ক্রিম দিয়ে এই ফেসিয়ালে ম্যাসেজ করা হয়। গোলাপ, লেভেন্ডার, জুঁই এমন অনেক ধরনের ফুল দিয়েই বাজারে ক্রিম তৈরি হয়। এই ম্যাসেজ হতাশা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ডায়মন্ড ফেসিয়াল:
বয়সের ছাপ রুখতে এই ফেসিয়ালের জুড়ি নেই। ডায়মন্ড ফেসিয়াল ত্বকের অতিরিক্ত টক্সিন ধুয়েমুছে ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বক অতি দ্রুত লাবণ্যতা ফিরে পায়। এ ধরনের ফেসিয়ালে প্রথম ধাপে ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করা হয়। এরপর ডায়মন্ড এক্সফোলিয়েটিং স্ক্রাব দিয়ে ত্বক ঘষেমেজে ঝকঝকে করা হয়। এতে ত্বকের মরা চামড়া ঝরে পড়ে আর ত্বক হয়ে ওঠে টানটান। এর পরে ডায়মন্ড ক্রিম দিয়ে ত্বককে আরো লাবণ্যময় করে তোলা হয়। এ ডায়মন্ড ক্রিমে আছে ডায়মন্ড পাউডার, অরেঞ্জ অয়েল, বেসিল, খেজুর ও পদ্মফুলের নির্যাস। এগুলো এদিকে যেমন ত্বকের পুষ্টি জোগায় অপরদিকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বক’কে রক্ষা করে। ক্রিম দিয়ে ম্যাসেজ হয়ে যাবার পর ত্বকে লাগানো হয় ডায়মন্ড মাস্ক। ফেসিয়াল করার সময় গরম তোয়ালে দিয়ে ত্বকের ভাপ নিন। স্ক্রাব দিয়ে ত্বকের মৃত সেলগুলোকে ঝরিয়ে ফেলুন আর ত্বক থেকে মাস্ক রিমুভ করার পরে কিছুটা সময় ত্বককে বিশ্রাম দিন। দেখবেন এমন একটা ফেসিয়াল এই রুক্ষ্ণ শীতেও আপনার ত্বক’কে রাখবে কোমল, মসৃণ আর সজীব।