গরমে ত্বক সুস্থ রাখবেন যেভাবে

এই গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে আমাদের ত্বক এবং চুল। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি, ধুলো বালি সব কিছু আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলে থাকে। যা ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ করে তোলে। তাই এই গরমে ত্বকের প্রয়োজন পড়ে বাড়তি যত্নের। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই গরমেও ত্বক কিভাবে সুস্থ রাখবেন।

গরমে ত্বক সুস্থ রাখবেন যেভাবে-

গরমে ত্বক সুস্থ রাখবেন যেভাবে
গরমে ত্বক সুস্থ রাখবেন যেভাবে
১। সানস্ক্রিন ব্যবহার

ত্বকের ধরণ অনুযায়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন দুটি উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে অ্যাভোবেনজোন এবং জিঙ্ক। এই দুটি উপাদান সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে । সানস্ক্রিন কেনার সময় অব্যশই এর এসপিএফ দেখে নিবেন। এসপিএফ ৩০ এর উপরে সানস্ক্রিন কেনা ভাল। বাইরে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলে যাবেন না।

২। এক্সফলিয়েট

এই গরমে ত্বক নিয়মিত স্ক্রাব করুন। একটি পাত্রে বেসন এবং দুধ মিশিয়ে নিন। এর সাথে কিছু পরিমাণে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে ত্বক ভাল করে স্ক্রাবিং করুন।

৩। ছাতা বা হ্যাট ব্যবহার করুন

আপনি যখনি বের হবেন ছাতা অথবা বড় কোন হ্যাট ব্যবহার করুন। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আপনার চুল এবং ত্বক উভয়কে রক্ষা করবে।

৪। ত্বক পরিষ্কার করা

এই গরমে অত্যন্ত দুইবার মুখ পরিষ্কার করুন। বাইরে থেকে ফিরে ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। যতবার বাইরে যাবেন ততবার ত্বক পরিষ্কার করুন। তবে হ্যাঁ প্রতিবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না। বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার ত্বক শুষ্ক করে তোলে।

৫। দুধের ব্যবহার

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন। তারপর একটি তুলোর বল দুধে ভিজিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। এটি ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে ত্বক নরম কোমল করে তুলবে।

৬। বরফ

প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে বরফ বেশ কার্যকর। সকালে এবং রাতে এক টুকরো বরফ নিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বককে ঠান্ডা করে ব্রণ হওয়া রোধ করবে।

৭। রোদে পোড়া দাগ দূর করা

টমেটোর রস অথবা লেবুর রস রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। বাইরে থেকে ফিরে একটি তুলোর বলে টমেটো রস অথবা লেবুর রস লাগিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করে নিন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

৮। ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাক

পেঁপে এবং দুধের তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বক ঠান্ডা করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে দেয়। এছাড়া শসা এবং শসার রস ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এক টুকরো শসা লবণে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ তারপর এটি ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি স্ক্রাব হিসেবে কাজ করবে।

এই গরমে শরীরে পানি শুন্যতা দেখা দিয়ে থাকে। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি করুন। এছাড়া ফল এবং পানি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি ত্বক সুস্থ রাখার পাশাপাশি আপনার শরীরও সুস্থ রাখবে।

কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন

ত্বকের রঙ যেমনই হোক না কেন ত্বক যদি পরিষ্কার থাকে তাহলেই আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। রঙ ফর্সাকারী কেমিক্যাল যুক্ত ক্রিম, ফেসওয়াশ, মাস্ক ব্যবহার করে যদি শুধু ত্বকের রঙ ফর্সা করতে গিয়ে ত্বকে ব্রণের দাগ বা ছোপ ছোপ দাগ করে ফেলেন তাহলে কি তা দেখতে ভালো দেখাবে? মোটেই নয়। তাই রঙ ফর্সাকারী নয় বরং ত্বকের দাগ দূর করার দিকে নজর দিন।

আজকে জেনে নিন ব্রণের দাগ, রোদে পোড়া দাগ বা অন্যান্য সমস্যায় ত্বকে দাগ পড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকার ঘরোয়া গোপন ৩ টি কৌশল।

ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করুন-

কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন
কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন
১) টমেটো ও বেসনের মাস্ক
বেসন ত্বকের দাগ দূর করতে অনেক আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের নানা ধরণের দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই।

– ২ টেবিল চামচ বেসনের সাথে প্রয়োজন মতো টমেটো রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।
– এরপর এই পেস্টটি মুখ, ঘাড় ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন।

– ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

– সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন এই মাস্কটি।

২) শসা ও লেবুর রসের মাস্ক
লেবুর রসের ব্লিচিং এজেন্ট ত্বকের দাগ ফিকে হয়ে আসতে সহায়তা করে এবং শসা প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার হিসেবে ত্বকের যত্ন নেয়।

– ৩ টেবিল চামচ শসা ও ৩ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে নিন।

– এই মিশ্রণটি মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট।

– এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারবেন।

৩) দুধ, মধু ও লেবুর রসের মাস্ক
প্রাচীনকাল থেকেই দুধ ও মধু রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন উপাদান বলে এর কদর রয়েছে বেশ।

– ১ টেবিল চামচ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন ভালো করে।

– এরপর মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন মাত্র ১০ মিনিট।

– পানি দিয়ে ধুয়ে নিন ভালো করে এবং তোয়ালে আলতো চেপে মুখ শুকিয়ে ফেলুন।

– সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

মাত্র ১ টি কাজে সকালে পান উজ্জ্বল ত্বক

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মলিন ত্বক নিশ্চয়ই কেউ দেখতে চান না। বিশেষ করে যদি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান বা কাজ থাকে সেদিন কেউই ত্বকের সমস্যা এবং মুখ কালচে হয়ে থাকুক তা পছন্দ করেন না। কিন্তু অযত্ন অবহেলার দরুন ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই যদি সকালে স্নিগ্ধ, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান তাহলে রাতেই আপনাকে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। তবে খুব বেশী কষ্ট করতে হবে না। রাতে খুব সহজ মাত্র একটি মাস্ক ব্যবহার করলেই সকালে পেতে পারেন উজ্জ্বল কোমল স্নিগ্ধ ত্বক যা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুনে।

মাত্র ১ টি কাজে সকালে পান উজ্জ্বল ত্বক-

মাত্র ১ টি কাজে সকালে পান উজ্জ্বল ত্বক
মাত্র ১ টি কাজে সকালে পান উজ্জ্বল ত্বক

যা যা লাগবে
১ চা চামচ টমেটোর রস
১ চা চামচ মধু
খুব অবাক লাগলেও মাত্র ২ টি উপকরণে তৈরি এই মাস্কটির কার্যক্ষমতা সত্যিই অবাক করবে আপনাকে।

পদ্ধতি ও ব্যবহারবিধি
– প্রথমে টমেটো কেটে ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে চিপে ছেঁকে রস বের করে নিন। তবে অবশ্যই ব্লেন্ডার পরিষ্কার আছে কিনা তা ভালো করে নিশ্চিত করে নেবেন।

– এরপর এই টমেটোর রসের সাথে মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন যেনো খুব মসৃণ মিশ্রণ তৈরি হয়।
– মুখ ভালো করে ফেসওয়াস দিয়ে পরিষ্কার করে স্ক্রাব করে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।

– এরপর পরিষ্কার ত্বকে মাস্কটি সমানভাবে ব্রাশ বা হাতের আঙুল দিয়ে লাগিয়ে নিন।

– কিছুক্ষন ভালো করে ত্বকে ম্যাসাজ করুন মাস্কটি।

– এরপর এভাবেই ত্বকে লাগিয়ে রাখুন পুরো রাত। ঘুমানোর সময় বালিশের উপরে একটি তোয়ালে জড়িয়ে নিন নতুবা কভারে মাস্কটি লেগে যেতে পারে।

– সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা নিজেই টের পাবেন।

– এই মাস্কটি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

কার্যকারণঃ

– টমেটো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে কার্যকরী একটি উপাদান। টমেটোর রস ত্বকের কালচে ভাব দূর করে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

– মধু প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার হিসেবে কাজ করে। এতে করে ত্বক নরম ও কোমল হয়। এছাড়াও মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে সহায়ক।

– মাস্কটি পুরো মুখে ম্যাসাজ করার ফলে ত্বকের নিচের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে দীপ্তিময় করে তুলতে সাহায্য করে।

নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা

সুন্দর ত্বকের জন্য এটা-সেটা মুখে কত কিছুই তো মাখেন আপনি। কিন্তু জানেন কি, এইসব রাসায়নিক দ্রব্য আপনার ত্বকের কি ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে? এইসব পণ্য মেখে ত্বক তো সুন্দর হয়ই না, উল্টো টাকা খরচের পাশাপাশি উল্টো বুড়িয়ে যেতে থাকেন আপনি। কী করবেন? জেনে নিন খুব অল্প চেষ্টায় নিখুঁত সুন্দর ত্বক পাবার একটি জাদুকরী ফর্মুলা।

শিখে নিন মাত্র ৩টি উপাদান মিশিয়ে একটি দারুণ ক্রিম তৈরি করার উপায়। এই দারুণ ফর্মুলা আপনার ত্বককে রাখবে সুন্দর ও টানটান, শুষ্কতা দূর করবে, তেলতেলে হতে দেবে না এবং আপনার সুন্দর চেহারায় একদম পড়তে দেবে না বয়সের ছাপ ।

নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা-

নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা
নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা
ক্রিম তৈরি করতে যা যা লাগবে
একদম বিশুদ্ধ নারিকেল তেল ১/২ কাপ (ঘরে তৈরি হলে ভালো)
১ টেবিল চামচ তরল ভিটামিন ই (ক্যাপসুল কিনে ভেতরের তরল বের করে নেবেন)
কয়েক ফোঁটা ল্যাভেনডার এসেনশিয়াল অয়েল ( বিদেশী কসমেটিক্সের দোকানে পাবেন। বা দোকানে বললে তাঁরা এনে দেবে। এসেনশিয়াল অয়েলের দাম একটু বেশী মনে হলেও এক বোতল দিয় অনেক বার ক্রিম তৈরি করতে পারবেন। তাই খরচ একদম বেশী হবে না)।
তৈরি ও ব্যবহার প্রণালি
এই সমস্ত উপাদান একত্রে মিশিয়ে নিন। তারপর কাজের কৌটায় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। সূর্যের আলো লাগতে দেবেন না।

একবার তৈরি করলে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
সকালে ও সন্ধ্যায় মুখে ম্যাসাজ করে এই ক্রিম লাগান। একদমই অল্প পরিমাণ নেবেন, ভালো জিনিস কখনোই বেশী ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহার করলেই দেখবেন যে আপনার এতদিন ব্যবহার করা ময়েসচারাইজার থেকে অনেক ভালো ফল পাচ্ছেন।

যেভাবে কাজ করে এই ক্রিম
শুষ্ক ত্বককে যেমন কোমল করে তুলবে এই ক্রিম, তেমনই তেলতেলে ত্বককে আরও তেলতেলে না করেই কোমল করে তুলবে।
নারিকেল তেল প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসাবে কাজ করে, তাই আপনি থাকবে সূর্যের অত্যাচার মুক্ত।
ভিটামিন ই ত্বককে টানটান রাখতে ও ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে খুবই কার্যকর।
এছাড়াও ভিটামিন ই ও ল্যাভেন্ডার ক্ষতিগ্রস্থ ত্বককে সারিয়ে তোলে।
নারিকেল তেলের আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণাবলী, যা ত্বকের হরেক রকম সমস্যা দূরে রাখে।
শরীরের অন্যান্য স্থানের ত্বকেও লাগাতে পারেন এই ক্রিম। স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেও দারুণ কার্যকর।

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক

রাতে ঘুম ভালো না হলে কিংবা আগের দিনটি ভালো না কাটলে পরিমিত ঘুম হলেও ত্বক অনেকটা মলিন দেখায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি মলিন কালচে ত্বক নজরে পড়ে তাহলে মনটাই খারাপ হয় যায়। দিনের শুরুটাই নষ্ট। আর যদি সেই দিন স্পেশাল কিছু থাকে তাহলে তো কথাই নেই, দিনটাই মাটি। অনেকেই ভাবেন তাৎক্ষণিকভাবে তো আর ত্বক উজ্জ্বল করা যাবে না এবং ত্বকের কালচে ভাবও দূর করা যাবে না, তাহলে কি করা যায়। চিন্তা করবেন না, তাৎক্ষণিক ভাবেই ত্বকের উজ্জলতা ফিরে পাওয়ার রয়েছে দারুণ কার্যকরী কৌশল। আজকে চলুন শিখে নেয়া যাক কৌশলটি।

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক-

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক
তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক
যা যা লাগবে:
>৩ টেবিল চামচ চাল
>৩ টেবিল চামচ তিলবীজ
>১ কাপ পানি

পদ্ধতি:

প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন এরপর তিল ও পানি একসাথে মিশিয়ে ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত।
>সকালে পানি ঝড়িয়ে হামান দিস্তায় পিষে অথবা গ্রাইন্ডারে গ্রাইন্ড করে মিশ্রণ তৈরি করুন। একেবারে মিহি করে ফেলবেন না, আবার অনেক বড় দানাও রাখবেন না এভাবে পিষে নিন।
>এই মিশ্রণটি সকালে স্ক্রাবের মতো করে পুরো ত্বকে লাগিয়ে নিন এবং ২ মিনিট রেখে দিন।
>২ মিনিট পর আলতো করে ঘষে নিন এবং ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
>আপনি চাইলে এই স্ক্রাবটি দিয়ে পুরো দেহ স্ক্রাব করে নিতে পারেন দেহের ত্বকের তাৎক্ষণিক উজ্জলতার জন্য।
>একটি এয়ার টাইট কনটেইনারে ভরে ৭ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন এই স্ক্রাবটি। তবে ভালো ফলাফলের জন্য দুদিন পর পর নতুন করে মিশ্রণ বানিয়ে নিন।

কার্যকারণ:
অনেকে ভাবতে পারেন এই প্যাকটি ব্যবহারের ফলে ঠিক কি কারণে ত্বকে তাৎক্ষণিকভাবে উজ্জ্বলতা আসবে। তাহলে জেনে নিন এর কার্যকারণ-
>চালের দানা ত্বকে স্ক্রাবের মতো ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ত্বকের উপরের মরা চামড়া খুব ভালো করে দূর হয়ে যায়। সেই সাথে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ময়লা দূর করে ত্বকের আসল দীপ্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।
>তিলবীজ ত্বকের জন্য অনেক কাজকরি একটি উপাদান। তিলের তেল অনেক আগে থেকেই রূপচর্চার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই মিশ্রণের পিষে নেয়া তিল ত্বককে নারিশ ও ময়েসচারাইজ করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাৎক্ষণিকভাবেই।

কালো বা সেম বর্ণ ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াবেন কীভাবে? জেনে নিন!!

সৌন্দর্য আসলে শুধুমাত্র ত্বকের রঙের ওপর ভিত্তি করে হয় না। প্রথমত, সৌন্দর্য শুধুমাত্র বাহ্যিক নয়, সৌন্দর্য তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তা মানসিক হয়। তাই ত্বকের রঙের ওপর ভিত্তির কখনওই সৌন্দর্য মাপা উচিৎ নয়।

দ্বিতীয়ত, ত্বকের রঙ যখনই কালো হয়, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নাক সিঁটকোই। কালো ত্বকের ওপর আমরা বিশেষ যত্ন নিই না। কিন্তু ত্বক কালো হলেও তা নিয়ম মতো যত্ন করতে পারলে তা ফর্সা ত্বকের থেকেও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তাই দেখে নিন কীভাবে কালো ত্বকের যত্ন নেবেন

১) সমস্তরকম ত্বকের ক্ষেত্রেই ননিয়মিত পরিচর্যা করা খুবই দরকার। আমাদের ত্বক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যস্ততার কারণে ত্বকের দিকে নজর দেওয়ার মতো সময় আমাদের হাতে থাকে না। ত্বক সুন্দর তখনই হয়, যখন তা পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন এবং যত্ন নেওয়া হয়।

২) ত্বক পরিষ্কার রাখতে অবশ্যই প্রত্যেকদিন ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়শ্চারাইজিং করা দরকার।

৩) শুধু ফর্সা ত্বকেই নয়, রোদে বাইরে বেরোলে সমস্ত ত্বকেই সানস্ক্রিন লাগানো খুবই প্রয়োজনীয়।

৪) ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত্‌। যেমন, ড্রাই ত্বকের জন্য যে প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যাবে, সেই একই জিনিস অয়েলি ত্বকের জন্য চলবে না।

৫) কালো ত্বকে কখনওই উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা উচিৎ নয়। তাহলে আরও কালো দেখায়। ম্যাট ফিনিশ পোশাক পরলে কালো ত্বকের ব্যক্তিদের অনেক বেশি ভালো লাগে।

রূপচর্চায় পুদিনা পাতার এতো গুন? ভাবতেও পারবেন না !!

পুদিনা পাতার চাটনি অত্যন্ত মজাদার। আর এই পুদিনা পাতা রূপ চর্চারও অনবদ্য উপকরণ। তৈলাক্ত মুখে সারা সময়ই একটা-দুটো ব্রণ লেগে থাকে। আর তা সারাতে পুদিনা পাতার জুড়ি নেই। শীতের সময় এর ফলন হয় বেশি এবং সারা বছরও বাজারে কম-বেশি পাওয়া যায়।

এবার জেনে নিন রূপচর্চায় এর ব্যবহার

প্রথমে পুদিনা গাছ থেকে শুধু পাতা নিন। ভালো ভাবে ধুয়ে মিহি করে বেটে পেস্টের মতো বানিয়ে রাতে মুখে ভালো ভাবে লাগিয়ে রেখে দিন। পরের দিন ভোরে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে মাস খানেক লাগানোর পর দেখবেন আপনার মুখে আর আগের ব্রণ নেই। দাগও নেই।

মনে রাখবেন, যেকোনো রূপচর্চাই ধৈর্য ধরে বহুদিন না করলে আপনি তার সঠিক ফল ভোগ করতে পারবেন না।

ঘরের জিনিস দিয়েই অনেক কম খরচে সৌন্দর্য চর্চা করে আপনি হয়ে উঠতে পারেন সুকোমল ত্বকের অধিকারিণী। বিউটি পার্লারে গিয়ে পয়সা ও সময় নষ্ট করে আপনাকে এসব করতে হবে না। অনায়াসে নিজেই এগুলো তৈরি করে নিতে পারেন। আর প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি বলে এর কোনো পার্শব প্রতিক্রিয়া নেই। শুধু দেখে নিন কোনটি আপনার জন্যে বেশি প্রযোজ্য।