অস্ট্রেলিয়া থেকে পদত্যাগ করলেন সাদারল্যান্ড

বুধবার মেলবোর্নে পদত্যাগের বিষয়ে সবাইকে জানান তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর পদে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। কিন্তু তার আগেই তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জেমস সাদারল্যান্ড।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সাদারল্যান্ড বলেছেন, ‘প্রায় ২০ বছর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সরঙ্গ থাকার পর মনে হয়েছে পদত্যাগের সঠিক সময় এটাই।শুধু আমার জন্যই নয়, এই মুহূর্তে সরে যাওয়াটা দলের জন্যও ভালো হবে মনে করি।’

‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে দারুণভাবে পরিচালনা করার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড ও ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জেমস সাদারল্যান্ডকে ধন্যবাদ জানাই।’

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সঙ্গে ১৯৯৮ সালে সাদারল্যান্ড যোগ দেন। তারপর ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি প্রধান নির্বাহী থাকাকালীন তিন বার বিশ্বকাপ জিতে টিম অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু কেপটাউন টেস্টে বল বিকৃতির ঘটনার পর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে। তারেই ভিত্তিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাদারল্যান্ড। অপরদিকে সাদারল্যান্ডের পদত্যাগে পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডেভিড পেভার বলেছেন,

বিশ্বকাপের যে চার দলকে ফেভারিট বললেন মেসি

লিওনেল মেসির ওপর ভর দিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা আছেন দারুণ ফর্মে। ক্লাব বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন লা লিগার শিরোপা। অন্যদিকে দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে নেমেই করলেন হ্যাটট্রিক। তার হ্যাটট্রিকে হাইতির বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নের সারথি মেসি জানিয়েছেন, তার দলই বিশ্বকাপের একমাত্র দাবিদার নয়। তার মতে, জার্মানি, ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং স্পেনও বিশ্বকাপের ফেভারিট দল।

বুধবার বুয়েন্স আইরেসে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে যেটি তার ষষ্ঠ হ্যাটট্রিক। তবে এদিন নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই তারকা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডোকে অতিক্রম করে মেসি এখন লাতিন অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসির বর্তমান গোল ৬৪টি। অন্যদিকে রোনাল্ডোর গোল ৬২। মেসির সামনে আছেন কেবল আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। তার গোল সংখ্যা ৭৭টি।

দুর্দান্ত এই রেকর্ডের পর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে মেসি বলেছেন, ‘আমরা সবাই এক উদ্দেশ্যেই রাশিয়া যাচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। আমরা যদিও বিশ্বকাপের দাবিদার নই কিন্তু আমরা খুবই ভালো, প্রশিক্ষিত এবং প্রতিদিনই উন্নতি করছি। আমাদের অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। যেকোনো দলের সাথে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। ফলে প্রথম ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া মেসি জানালেন, ‘বিশ্বকাপে বেশিরভাগ সময়েই যুক্তি কাজে আসে না। আমাদের প্রথম ম্যাচটি নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচ জয় আমাদের মানসিক শান্তি দেবে।’

নিজেদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়েও দারুণ আত্মবিশ্বাসী মেসি, ‘আমরা কি করতে যাচ্ছি তা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আমরা অসাধারণ একটি স্কোয়াড গড়তে যাচ্ছি, যেটা দল হিসেবে ও ব্যক্তি পর্যায়ে খুবই শক্তিশালী।’

৯ জুন ইসরায়েলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মেসি বাহিনী। তারপরই বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়ায় পাড়ি জমাবে তারা। ‘ডি’ গ্রুপের খেলায় ১৬ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্বের অন্য দুই ম্যাচে ২১ জুন ক্রোয়েশিয়া ও ২৬ জুন নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে দেশটি।

সূত্র : ফোর ফোর টু।

৩ উইকেট নিলেন রাশিদ খান এক ওভারে

ভারতের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের আজকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের কাজে হেরের কারণে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়লাভ করতে হবে বাংলাদেশকে।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একাদশে আসছে দুটি পরিবর্তন। অাবু জায়েদ রাহির পরিবর্তে সৌম্য সরকার এবং আবুল হাসান এর পরিবর্তে খেলছেন অাবু হায়দার রনি।

এ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শাপুর জাদরান এর প্রথম বলেই লিটন কুমার দাস ১ রান করে রাশিদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। দলীয় ৩০ রানের মাথায় নবীর বলে ক্যাচ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাব্বির রহমান। ৯ বলে ১৩ রান করেন সাব্বির। এরপরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ঘুরে দাড়ান তামিম ইকবাল।

তবে দলীয় ৭৫ রানের মাথায় ২২ রান করা মুশফিকুর রহিম অাউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৮ বলে ১৪ রান করে আউট হন তিনি। এক প্রান্ত থেকে তামিম টিকে থাকলেও টিকে থাকতে পারেনি আর কোন ব্যাটসম্যান। ১৬ তম ওভারে এসে ৩ উইকেট নেন রাশিদ।
রাশিদ খানের বলে মাত্র ৩ রান করেই আউট হয়ে যান সাকিব আল হাসান। একই ওভারে ৪৮ বলে ৪৩ রান করে রাশিদের শিকার হন তামিমও। পরের বলে বোল্ড হন মোসাদ্দেক।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৪ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান একাদশ : মোহাম্মদ শাহজাদ, উসমান গনি, আজগর স্টানিকজাই (অধিনায়ক), নাজিবুল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, শফিকউল্লাহ, রশিদ খান, করিম জানাত, মুজিব উর রহমান, শাপুর জাদরান।

বাংলাদেশ একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সৌম্য সরকার, অাবু হায়দার রনি রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি রোজা রাখবেন?

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক মুসলমান রোজা রাখবেন- এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত।

তারা একদিকে যেমন রোজা রাখতে চান, অন্যদিকে আবার ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখা যাবে কিনা বা কীভাবে রাখতে হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। অনেকে ভয়ে রোজা রাখেন না, অনেকে আবার নিজের মতো করে ওষুধ পরিবর্তন করে রোজা রাখতে চান। মোটকথা ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখা নিয়ে অনেক রোগী, এমনকি অনেক ডাক্তারও বিভ্রান্তিতে ভোগেন।

অথচ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা রাখা অনেক সহজ করে দিয়েছে। ডায়াবেটিস হলে রোগী রোজা রাখতে পারবেন না- একথা মোটেই ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এবং ইসলামী আলেমগণ উভয়েই রোজা রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। সুতরাং যেসব ডায়াবেটিস রোগী ঝুঁকির কথা জেনেও ধর্মীয় কারণে রোজা রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তারা রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে জটিলতা এড়িয়েই রোজা রাখতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগে অনেক ধরনের জটিলতা হতে পারে। যেহেতু একজন রোজাদারকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়, তাই তাদের জটিলতার সম্ভাবনা আরো বেশি।

রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের যে সমস্ত জটিলতা হতে পারে তা হলো- রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসিমিয়া), সুগার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসিমিয়া), পানি শূন্যতা এবং ডায়াবেটিক কিটো-এসিডোসিস। এছাড়া অনেকে এই মাসে রোজা রেখেও বাকি সময় অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করেন এবং ব্যায়াম বা হাঁটাচলা প্রায় করেন না।

ফলে রক্তের চর্বি এবং শরীরের ওজন বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই থাকে না। অনেকক্ষণ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে, তাকে বলে হাইপোগ্লাইসিমিয়া। বিশেষ করে যারা সালফোনাইল ইউরিয়া জাতীয় ওষুধ খান, ইনসুলিন নেন, সেহরি খান না বা খুব কম খান অথবা রোজা রেখে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, তাদের এই ঝুঁকিটা বেশি।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বোঝার উপায় হলো, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম দেয়া, মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপা, চোখে ঝাঁপসা দেখা ইত্যাদি। এতে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

সুগারের পরিমাণ ৩ বা এর নিচে হলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোজ বা চিনির সরবত বা যে কোনো খাবার খেয়ে নিতে হবে। রক্তের সুগার কখনও কখনও অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে, তাকে বলে হাইপারগ্লাইসিমিয়া। এর লক্ষণ হলো জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, বমি ইত্যাদি।

২২ ঘণ্টা রোজা রাখবে যে দেশের মুসলমান

ইসলাম ডেস্ক: আর মাত্র দুই দিন। এরপরই শুরু হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মাস ‘মাহে রমজান’। একেক দেশে রোজা রাখার সময়ও কিন্তু ভিন্ন। কখনো কী ভেবেছেন পৃথিবীর অপর প্রান্তের দেশগুলোতে রোজা রাখার সময় কীরকম।

ইউরোপের ছোট্ট একটি দ্বীপ রাষ্ট্র আইসল্যান্ডের কথা বলি। যেখানে দিনের মধ্যে বাইশ ঘন্টাই দিন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সে দেশটির মুসলিম নাগরিকদের এবার ২২ঘন্টাই রোজা রাখতে হবে। প্রায় একহাজার মুসলমানের একধরণের অসাধ্যই সাধন করতে হবে এমন চমকপ্রদ তথ্যই বেরিয়ে এসেছে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপর।

এরফলে খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রাম বাবদ কেবলমাত্র দুই ঘন্টাই সময় পাবে এবার আইসল্যান্ডের নাগরিকরা। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে এ মাসে একবেলা খেয়ে কাটাতে হবে দেশটির নাগরিকদের। অপরদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের মাত্র নয় ঘন্টার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে বলেও জানা গেছে। নিউইয়র্ক টাইমস

রমজানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন: পবিত্র রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনুল কারিমের গভীর সর্ম্পক রয়েছে। এই মাসেই পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল (আঃ) এর সঙ্গে রমজানের প্রত্যেক রাতে কুরআন মাজিদ একে অপরের কাছে শুনাতেন।

হাদিস শরিফে আছে, হজরত জিবরাইল আমিন রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন এবং তাকে কুরআন শরিফ পড়ে শোনাতেন।

(বুখারী শরিফ, হাদিস নং-১৯০২)
এক হাদিসে আছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল।
(শুআবুল ঈমান, হাদিস নং-৩/৩০৫-৩০৬)

সারা বছর যে পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত হয় তার চেয়ে বহুগুণ তেলাওয়াত পবিত্র রমজান মাসে হয়। এ মাসের রাতগুলোতে তারাবি নামাজ এবং তারারিব নামাজে কুরআন তেলাওয়াত বিধিবদ্ধ হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়ি এই পবিত্র মাসে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াতে যত্নবান হয়েছেন।

এমনকি মুসলিম উম্মাহর পূর্ণবান রমণীগণের জীবনীতেও পাওয়া যায় যে, তারাও এ মাসে তেলাওয়াতের ব্যাপারে কোন অংশে পিছিয়ে ছিলেন না। সংসারের শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা এ মুবারক মাসে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। এ ব্যাপারে প্রচুর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এখানে ছোট একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো।

শাইখুল হাদিস যাকারিয়া কান্দলোভী (রহ.) রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গে তার কন্যাদের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন আমি ফাজায়েলে রমজানের একাধিক স্থানে এবং ফাজায়েলে কুরআনেও এ বিষয়টি লেখেছি যে, আমাদের পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বিশেষ করে আমার কন্যারা সন্তান-সন্ততি ও সংসারের নানা ঝামেলা সত্ত্বেও এই মুবারক রাতগুলো বিভিন্ন (মাহরাম) হাফেজে কুরআনের পেছনে নামাজে কাটিয়ে থাকে এবং দিনের বেলা কমপক্ষে ১৪/১৫ পারা কুরআন তেলাওয়াত করে। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলতে থাকে যে, কে কত বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে।

(আকাবিরদের রমজান, ৬৩-৬৪)
অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত রমজানে অধিক পরিমাণে কুরআন লোওয়াত করা। অন্তত পক্ষে একবার হলেও কুরআন শরিফ খতম করা। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি, ও সালফে সালেহীনের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা এবং পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে রমজানে বহুবার কুরআন মাজিদ খতম করতেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে কবুল করুন এবং আমাদের তেলাওয়াতের উচিলায় আামাদের নাজাতের ব্যবস্থা করুক।
(আমিন)

রফিককে বিসিবির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তবে কি ফিরছেন রফিক?

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ রফিক ফিরছেন বাংলাদেশ দলের সাথে। তবে স্পিন কোচ হয়ে ফিরছেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে তাকে।
প্রস্তাবে সারা দিলে খুব দ্রুতই বিসিবির সাথে চুক্তি হতে যাচ্চে রফিকের। এ প্রস্তাবে বেশ খুশি এ কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই এমন একটা প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম।’
নিজেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উজাড় করে দিতে প্রস্তত তিনি জানিয়ে বলেন, ‘এ দায়িত্ব কাধেঁ নিয়ে দেশকে ভালো কিছু দিতে চাই’।
বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার কারিগর গর্ডন গ্রিনিজের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে অন্যান্য সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্পিনার মোহাম্মাদ রফিকও। আর সেখানেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন রফিককে প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় দলের স্পিন কোচ হওয়ার।
রফিকের মতে, তিনি আরও আগে আশা করেছিলেন এই ধরনের প্রস্তাবের কিন্তু দেরীতে আসলেও তাঁর নেই কোনো ক্ষোভ। এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দেশকে আরও কিছু দিতে চান এই নামী স্পিনার। তৈরী করতে চান স্পিনারদের পাইপলাইন।
এদিকে জানা গেছে, খুব দ্রতই রফিকের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা বিসিবি। প্রাথমিকভাবে কাজের পরিধি হওয়ার কথা বিসিবি হাই পারফরম্যান্স ইউনিট এবং বয়সভিত্তিক দল।

চুলের সমস্যা দূর করতে টক দইয়ের হেয়ার প্যাক

চুলের যত্নে নানা রকম হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে মেহেদি প্যাক অন্যতম। এটি চুল পড়া রোধ করে প্রাকৃতিকভাবে চুল কালার করে থাকে। আরও একটি উপাদান আছে যা চুল নরম-কোমল করে, খুশকি রোধ করে চুলকে মজবুত করে তোলে। তা হল টক দই। অনেকেই জানেন চুলের খুশকি দূর করার জন্য টক দই বেশ কার্যকর। শুধু খুশকি দূর করা নয় চুলের আরও অনেক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে টক দই-এর হেয়ার প্যাক।

চুলের সমস্যা দূর করতে টক দইয়ের হেয়ার প্যাক-

১। চুল নরম কোমল করতে

টক দই, নারকেল তেল এবং অ্যালোভেরা জেল ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলে ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। প্রাণহীন, নির্জীব, রুক্ষ চুলকে নরম, কোমল, এবং ময়োশ্চারাইজ করে তুলবে এই প্যাকটি। নিয়মিত ব্যবহারে এই প্যাকটি চুলের রুক্ষতা দ্রুত দূর করে দেবে।

২। চুল পড়া রোধ

১/৪ কাপ মেথি গুঁড়োর তার সাথে ১ কাপ টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মাথার তালুসহ সম্পূর্ণ চুলে এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। ২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করুন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।

৩। রুক্ষতা দূর করতে

টকদই, বাদাম তেল এবং একটি ডিম ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোড়া থেকে সম্পূর্ণ চুলে ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। ডিমের পুষ্টি এবং তেলে চুলের রুক্ষতা দূর করে দিয়ে চুল স্লিকি করে তোলে।

৪। খুশকি দূর করতে

মাথার তালুর রুক্ষতা, খুশকি দূর করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল টক দইয়ের সাথে ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি মাথার তালুতে ১০ মিনিট চক্রাকারে ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে দুই বার ব্যবহার করুন।

কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন

বকের রঙ যেমনই হোক না কেন ত্বক যদি পরিষ্কার থাকে তাহলেই আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। রঙ ফর্সাকারী কেমিক্যাল যুক্ত ক্রিম, ফেসওয়াশ, মাস্ক ব্যবহার করে যদি শুধু ত্বকের রঙ ফর্সা করতে গিয়ে ত্বকে ব্রণের দাগ বা ছোপ ছোপ দাগ করে ফেলেন তাহলে কি তা দেখতে ভালো দেখাবে? মোটেই নয়। তাই রঙ ফর্সাকারী নয় বরং ত্বকের দাগ দূর করার দিকে নজর দিন।

আজকে জেনে নিন ব্রণের দাগ, রোদে পোড়া দাগ বা অন্যান্য সমস্যায় ত্বকে দাগ পড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকার ঘরোয়া গোপন ৩ টি কৌশল।

ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করুন-
কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন
কিভাবে ঘরোয়া ৩টি উপায়ে ত্বকের দাগ দূর করবেন
১) টমেটো ও বেসনের মাস্ক

বেসন ত্বকের দাগ দূর করতে অনেক আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের নানা ধরণের দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই।
– ২ টেবিল চামচ বেসনের সাথে প্রয়োজন মতো টমেটো রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।

– এরপর এই পেস্টটি মুখ, ঘাড় ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন।

– ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

– সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন এই মাস্কটি।
২) শসা ও লেবুর রসের মাস্ক

লেবুর রসের ব্লিচিং এজেন্ট ত্বকের দাগ ফিকে হয়ে আসতে সহায়তা করে এবং শসা প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার হিসেবে ত্বকের যত্ন নেয়।

– ৩ টেবিল চামচ শসা ও ৩ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে নিন।

– এই মিশ্রণটি মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট।

– এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারবেন।
৩) দুধ, মধু ও লেবুর রসের মাস্ক

প্রাচীনকাল থেকেই দুধ ও মধু রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন উপাদান বলে এর কদর রয়েছে বেশ।

– ১ টেবিল চামচ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন ভালো করে।

– এরপর মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন মাত্র ১০ মিনিট।

– পানি দিয়ে ধুয়ে নিন ভালো করে এবং তোয়ালে আলতো চেপে মুখ শুকিয়ে ফেলুন।

– সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক

রাতে ঘুম ভালো না হলে কিংবা আগের দিনটি ভালো না কাটলে পরিমিত ঘুম হলেও ত্বক অনেকটা মলিন দেখায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি মলিন কালচে ত্বক নজরে পড়ে তাহলে মনটাই খারাপ হয় যায়। দিনের শুরুটাই নষ্ট। আর যদি সেই দিন স্পেশাল কিছু থাকে তাহলে তো কথাই নেই, দিনটাই মাটি। অনেকেই ভাবেন তাৎক্ষণিকভাবে তো আর ত্বক উজ্জ্বল করা যাবে না এবং ত্বকের কালচে ভাবও দূর করা যাবে না, তাহলে কি করা যায়। চিন্তা করবেন না, তাৎক্ষণিক ভাবেই ত্বকের উজ্জলতা ফিরে পাওয়ার রয়েছে দারুণ কার্যকরী কৌশল। আজকে চলুন শিখে নেয়া যাক কৌশলটি।

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক-
তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক
তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকরী ফেসপ্যাক

যা যা লাগবে:
>৩ টেবিল চামচ চাল
>৩ টেবিল চামচ তিলবীজ
>১ কাপ পানি

পদ্ধতি:

প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন এরপর তিল ও পানি একসাথে মিশিয়ে ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত।
>সকালে পানি ঝড়িয়ে হামান দিস্তায় পিষে অথবা গ্রাইন্ডারে গ্রাইন্ড করে মিশ্রণ তৈরি করুন। একেবারে মিহি করে ফেলবেন না, আবার অনেক বড় দানাও রাখবেন না এভাবে পিষে নিন।
>এই মিশ্রণটি সকালে স্ক্রাবের মতো করে পুরো ত্বকে লাগিয়ে নিন এবং ২ মিনিট রেখে দিন।
>২ মিনিট পর আলতো করে ঘষে নিন এবং ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
>আপনি চাইলে এই স্ক্রাবটি দিয়ে পুরো দেহ স্ক্রাব করে নিতে পারেন দেহের ত্বকের তাৎক্ষণিক উজ্জলতার জন্য।
>একটি এয়ার টাইট কনটেইনারে ভরে ৭ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন এই স্ক্রাবটি। তবে ভালো ফলাফলের জন্য দুদিন পর পর নতুন করে মিশ্রণ বানিয়ে নিন।

কার্যকারণ:
অনেকে ভাবতে পারেন এই প্যাকটি ব্যবহারের ফলে ঠিক কি কারণে ত্বকে তাৎক্ষণিকভাবে উজ্জ্বলতা আসবে। তাহলে জেনে নিন এর কার্যকারণ-
>চালের দানা ত্বকে স্ক্রাবের মতো ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ত্বকের উপরের মরা চামড়া খুব ভালো করে দূর হয়ে যায়। সেই সাথে ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ময়লা দূর করে ত্বকের আসল দীপ্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।
>তিলবীজ ত্বকের জন্য অনেক কাজকরি একটি উপাদান। তিলের তেল অনেক আগে থেকেই রূপচর্চার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই মিশ্রণের পিষে নেয়া তিল ত্বককে নারিশ ও ময়েসচারাইজ করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাৎক্ষণিকভাবেই।