রমজানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন: পবিত্র রমজান মাসের সঙ্গে কুরআনুল কারিমের গভীর সর্ম্পক রয়েছে। এই মাসেই পবিত্র কুরআন লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাইল (আঃ) এর সঙ্গে রমজানের প্রত্যেক রাতে কুরআন মাজিদ একে অপরের কাছে শুনাতেন।

হাদিস শরিফে আছে, হজরত জিবরাইল আমিন রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন এবং তাকে কুরআন শরিফ পড়ে শোনাতেন।

(বুখারী শরিফ, হাদিস নং-১৯০২)
এক হাদিসে আছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল।
(শুআবুল ঈমান, হাদিস নং-৩/৩০৫-৩০৬)

সারা বছর যে পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত হয় তার চেয়ে বহুগুণ তেলাওয়াত পবিত্র রমজান মাসে হয়। এ মাসের রাতগুলোতে তারাবি নামাজ এবং তারারিব নামাজে কুরআন তেলাওয়াত বিধিবদ্ধ হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়ি এই পবিত্র মাসে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াতে যত্নবান হয়েছেন।

এমনকি মুসলিম উম্মাহর পূর্ণবান রমণীগণের জীবনীতেও পাওয়া যায় যে, তারাও এ মাসে তেলাওয়াতের ব্যাপারে কোন অংশে পিছিয়ে ছিলেন না। সংসারের শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা এ মুবারক মাসে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। এ ব্যাপারে প্রচুর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এখানে ছোট একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো।

শাইখুল হাদিস যাকারিয়া কান্দলোভী (রহ.) রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গে তার কন্যাদের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন আমি ফাজায়েলে রমজানের একাধিক স্থানে এবং ফাজায়েলে কুরআনেও এ বিষয়টি লেখেছি যে, আমাদের পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বিশেষ করে আমার কন্যারা সন্তান-সন্ততি ও সংসারের নানা ঝামেলা সত্ত্বেও এই মুবারক রাতগুলো বিভিন্ন (মাহরাম) হাফেজে কুরআনের পেছনে নামাজে কাটিয়ে থাকে এবং দিনের বেলা কমপক্ষে ১৪/১৫ পারা কুরআন তেলাওয়াত করে। তাদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলতে থাকে যে, কে কত বেশি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে।

(আকাবিরদের রমজান, ৬৩-৬৪)
অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত রমজানে অধিক পরিমাণে কুরআন লোওয়াত করা। অন্তত পক্ষে একবার হলেও কুরআন শরিফ খতম করা। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি, ও সালফে সালেহীনের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা এবং পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে রমজানে বহুবার কুরআন মাজিদ খতম করতেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে কবুল করুন এবং আমাদের তেলাওয়াতের উচিলায় আামাদের নাজাতের ব্যবস্থা করুক।
(আমিন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *